UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ট্যাবলেট-কম্পিউটার পাচ্ছেন ৭ লাখ শিক্ষক, তালিকায় যারা

ঊষার আলো রিপোর্ট
অক্টোবর ৭, ২০২৬ ৫:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর আওতায় দেশের ৭ লাখের বেশি শিক্ষককে একটি করে আধুনিক ট্যাবলেট-কম্পিউটার দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

মাউশি সূত্র জানায়, অধিদপ্তরের আওতাধীন সরকারি ও বেসরকারি স্কুল, কলেজ এবং মাদ্রাসায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানকারী শিক্ষকদের এ তালিকায় রাখা হবে। তবে ডিভাইস বিতরণের জন্য শিক্ষকসংখ্যা, প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক তথ্য বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে। চূড়ান্ত তালিকা ও বিতরণসংক্রান্ত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রকাশ করা হবে।

মাউশির পরিকল্পনা শাখা জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ পরিচালনায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৭ হাজার ৯৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ৭ লাখের বেশি শিক্ষককে একটি করে আধুনিক ট্যাবলেট-কম্পিউটার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্তত ১০টি করে স্মার্ট ক্লাসরুম স্থাপন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে একটি করে ইন্টারঅ্যাক্টিভ এডুকেশন প্যানেল স্থাপন এবং ১০০ এমবিপিএস ব্রডব্যান্ড সংযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একক ‘এডু আইডি’ চালুর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিপুলসংখ্যক শিক্ষককে ট্যাবলেট-কম্পিউটার দেওয়া হলে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাস পরিচালনা আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিনির্ভর শেখার সুযোগও বাড়বে।

৩২ জেলায় শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ অবকাঠামো শক্তিশালী ও সম্প্রসারণেও বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক পর্যায়ে শিক্ষক প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়াতে ৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ৩২টি বৃহৎ জেলায় ‘হায়ার সেকেন্ডারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’ (এইচএসটিটিআই) স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রস্তাবিত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষকদের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আরও ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ লাখ শিক্ষককে ৩৫ দিনব্যাপী মিশ্র পদ্ধতির বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১০ হাজার অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে ২৩ দিনব্যাপী নেতৃত্ব প্রশিক্ষণ এবং ৪ হাজার গভর্নিং বডি সদস্যের জন্য সমন্বিত ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সাড়ে ৩ লাখের বেশি শিক্ষককে প্রশিক্ষণের লক্ষ্য

শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় পরিচালিত ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (লেইস) প্রকল্পের আওতায় ৩ লাখ ৬০ হাজার ৫৬৬ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে ২৬ হাজার ৮৮০ জন নতুন শিক্ষকের জন্য ৫৬ দিনব্যাপী আবাসিক বেসিক ট্রেনিং এবং ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষকের জন্য ৪২ দিনব্যাপী আবাসিক প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এ ছাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসার ২৪ হাজার ৪০০ জন প্রধান শিক্ষকের জন্য ২১ দিনব্যাপী লিডারশিপ ট্রেনিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ১১ হাজার শিক্ষককে জলবায়ু ও দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, কাউন্সেলিং ও বুলিং প্রতিরোধে ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৪০ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। পাশাপাশি আইসিটি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ২৯ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষককে।

এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল গণমাধ্যমে বলেন, প্রকৃত মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষকদের স্মার্ট দক্ষতায় রূপান্তরের বিষয়ে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।

ঊষার আলো-এসএ