ঊষার আলো প্রতিবেদক : ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে কয়রার ৬টি পয়েন্টের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাতা প্লাবিত হয়েছে। এতে মৎস্য ঘের তলিয়ে যাওয়াসহ ঘরবাড়ি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানিবন্দী অবস্থার মধ্যদিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে উপকূলবাসী। শুক্রবার (৯ মে) উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের শিমলারাইট জামে মসজিদে মুসল্লিরা পানিতে দাঁড়িয়েই জুম্মার নামাজ আদায় করেন। বুধবার (২৬ মে) ইউনিয়নের দশহালিয়ায় ভাঙ্গনে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, বাঁধ সংস্কারের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অনেক বাঁধ মেরামত করা সম্ভব হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের সহযোগিতা করা হচ্ছে। পানিবন্দী মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা শুরু হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সাগর হোসেন সৈকত বলেন, কয়রায় ইয়াসের প্রভাবে উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের সব এলাকাতেই কমবেশি ক্ষতি সাধিত হয়েছে। অনেক এলাকায় ঘর ভেঙে পড়েছে। অনেক এলাকায় ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরের সংখ্যা ৭ হাজার। এর মধ্যে ৫০টি ঘর সম্পূর্ণ, ১ হাজার ২শ’ ঘর আংশিক ও ৫ হাজার ৮শ’ ঘর অল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব এলাকার মানুষ এখনও পানিবন্দী অবস্থায় দিনাতিপাত করছে। এর ফলে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
উপজেলা মৎস্য অফিসার এস এম আলাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ইয়াসের জলোচ্ছ্বাসের প্রভাবে এ উপজেলায় ২ হাজার ১শ’ মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া অসংখ্য মাছের ঘের ও পুকুর ডুবে গেছে। যাতে এ খাতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ক্ষতি সাধিত হয়েছে। পাউবোর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কৃষির ফসল ব্যাপকহারে নষ্ট হয়েছে। গবাদি পশুর ক্ষয়ক্ষতিরও খবর পাওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মেডিকেল টিম স্বাস্থ্য সেবায় কাজ করছে।
সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, ভেঙে যাওয়া বাঁধের মহারাজপুর ইউনিয়নের মঠবাড়ির পবনা, দশহালিয়া ও উত্তর বেদকাশি ইউনিয়নের গাতির বেড়িবাঁধ এখনও সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। তবে দক্ষিণ বেদকাশি ও মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের ভেঙে যাওয়া বাঁধ কোনও রকমে বাঁধতে সম্ভব হয়েছে। এসব বাঁধে জরুরি ভিত্তিতে কাজ করা প্রয়োজন বলে তিনি জানান।
(ঊষার আলো-এমএনএস)
