UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

করোনার ছোবল ; ভালো নেই সংখ্যালঘু মুচি সম্প্রদায়

ঊষার আলো
মে ২৯, ২০২১ ৮:২৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক : করোন বারুক বা কমুক তাতে আমদের জীবন থেমে থাকবেনা। জুতা-স্যান্ডেল সেলাই করে পরিবারের সদস্যদের জন্য মোটা চালের ভাত আর প্যানপ্যানে ডালের ব্যবস্থা তো করতেই হবে এমনই কথাগুলো ভরাক্রান্ত মনে বললেন, দৌলতপুরের ঐতিহ্যবাহী মিনাক্ষী হলের মোড়ের ভাঙ্গা কাঠের পাটাতনের ওপর বসে থাকা সংখ্যালঘু মুচি সম্প্রদায়ের সদস্যরা। ক্রমশ: বেড়ে যাওয়া সম্প্রতি করোনা মহামারীর কারণে নতুন করে শুরু হয়েছে লকডাউন। করোনা হিংস্র ছোবল আর দীর্ঘ লকডাউন সমাজের অতি আদী নিন্মশ্রেনীর বঞ্চিত দৌলতপুরে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী মুচি সম্প্রদায়ের সদস্যরা আর্থিক সংকটের কারণে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। নগরীর দৌলতপুর বাউন্ডারী রোডে ঋষিপাড়ায় বছরের পর বছর ধরে বসবাস করে আসছে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী মুচি সম্প্রদায়ের মানুষগুলো। তাদের জীবনধারার মান আদী হতেই নিন্মমানের। তাদের জীবনযাত্রার মানের উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে করোনা ভাইরাস এবং লকডাউনের অবরুদ্ধতা।
সম্প্রতি চলমান এ ভাইরাসের প্রার্দুভাবে তারা আজ অনেইটাই কর্মহীন হয়ে পড়েছে। প্রায় নব্বই দশকের আগে হতে এ জনগোষ্ঠীর লোকেরা দৌলতপুর মিনাক্ষী মোড়ে ছোট কাঠের পাটাতনের উপর বসে কোন রকম কোনঠাসা অবস্থায় জুতা সেলাই করে আয় উপার্জন করে সংসারের ভরণপোষন চালিয়ে আসছিল। কঠোর পরিশ্রমি মুচি সম্প্রদায়ের এ অভাবী মানুষগুলি এখন সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে। ফুটবলের মত গড়িয়ে গড়িয়ে চলছিল তাদের জীবন জীবিকা, তবে করোনা ভাইরাস সংক্রমনের ভয়াবহ থাবা তাদের জীবন যাত্রাকে দমিয়ে দিয়েছে। লকাউনের কারণে দৌলতপুরে অলস সময়পার করছে একাধিক সংখ্যালঘু সদস্যরা।
নেধু দাস প্রায় ২০/২৫ বছর একইস্থানে ধরে কাজ করে আসছেন। তিনি পুরাতন জুতা বিক্রয়সহ মেরামতের কাজ করেন। তিনি বলেন, করোনা আগে সকাল হতে রাত ১০টার মধ্যে ৪/৫শ’ টাকার কাজ করতাম। কিন্তু বর্তমান সময়ে ৭০/৮০ টাকার মত কাজ করছি। খুব কষ্ট হচ্ছে একশ’ টাকা আয় করতে। বাড়িতে স্ত্রী, ছেলে, মা ও চার ভাইয়ের আহারের ব্যবস্থা তাকেই করতে হয়।
সবমিলিয়ে ভালো নেই দৌলতপুরে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মুচি সম্প্রদায়ের সদস্যরা মানবেতর দিনযাপন করেছে। অনেকটাই তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরাচ্ছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)