UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নগরীতে ফের পেঁয়াজের বাজার অস্থিতিশীল : ক্রেতারা দিশেহারা

ঊষার আলো
মে ২৯, ২০২১ ৯:০১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক : মাত্র ৩/৪ দিনের ব্যবধানে দৌলতপুর পাইকারী কাঁচা বাজারে ৩৪ টাকার পেয়াজ এখন ৪২ টাকা দরে বিক্রি হলেও তা হাত ঘুরে সাধারণ ভোক্তাকে খুঁচরা বাজার থেকে কিনতে হচ্ছে ৪৮ টাকায়। হঠাৎ করে এমন অস্বাভাবিকভাবে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির কারণে নাজেহাল অবস্থায় পড়েছেন বাজারে আসা খুচরা বিক্রেতাসহ সাধারণ ক্রেতাগণ। পেয়াজের দাম এমনই উর্দ্ধমুখী হওয়াই ক্রেতারা হতবাগ। গত সপ্তাহে পাইকারী বাজারে পেঁয়াজের সর্বোচ্চ দাম ছিল ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা। যা বর্তমানে রাখি পেঁয়াজ বলে ব্যবসায়ীরা বিক্রি করছে ৪২ টাকা দরে।
সরেজমিনে দেখা যায় দৌলতপুর বাজারে শৈলকূপা, নাঙ্গলবন্দী, মধুখালি, নাড়ুয়া, মিরকে, নানীবাড়ী, পানসা, পাবনা, চাঁকমোহড়া, হাজির হাটসহ প্রভৃতি হাট বা মোকাম থেকে বাজারে পেঁয়াজ সরবরাহ হয়ে থাকে।
ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় একদিকে কিছুটা পেয়াজের কৃত্রিম সংকট, ভারতের পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ। অন্যদিকে প্রান্তিক চাষীরা অধিক লাভের আশায় যে পেঁয়াজ মুজুদ করে রেখেছিল তাই বর্তমানে হাটে অধিক দরে বিক্রি করছে। যে কারণে বাজারে দাম বৃদ্ধি। বর্তমানে বাজারে যে পেঁয়াজ সরবরাহ হচ্ছে তা চাাহিদা তুলনায় কম থাকায় দামের বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন এ প্রবীণ ব্যবসায়ী।
মেসার্স জোনাকী ভান্ডারের মালিক আবু সুফিয়ান জানান, বর্তমানে ক্রেতাদের চাহিদার তুলনায় কিছুটা পেঁয়াজের কৃত্রিম সংকট, ভারতের পেঁয়াজের আমদানি বন্ধ। অন্যদিকে প্রান্তিক চাষীরা অধিক লাভের আশায় যে পেঁয়াজ মুজুদ করে রেখেছিল তা-ই বর্তমান হাটে অধিক দামে কিনছে। তাই বাজারে এনে বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে।
ব্যবসায়ী রোমান বলেন, হাটে যে দামে পেঁয়াজ বিক্রি হয়, আমরাও সামান্য লাভে সেই দামেই বিক্রি করি। দৌলতপুর খুচরা বাজার মুদি দোকানদার আজাদ জানান, রোজার মাসে পেঁয়াজ ৩২ টাকা দিয়ে কিনে ৩৬ টাকায় বিক্রি করেছি। ঈদের বাজারে একই দামে বিক্রি হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে ৪০ থেকে ৪২ টাকায় কেনা পড়েছে। খুচরা বাজারে ৪৬/৪৮ টাকা দরে কেজিতে বিক্রি করছি। দোকানে খুচরা ক্রেতাদের নিকট কত করে বেচবো। যে পেঁয়াজ দু’দিন আগে ছিল ৩৪ টাকা কেনা তাই এখন ৪০ টাকা। দোকানে খুচরা বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছি।
দৌলতপুর খুচরা বাজার কাচাঁমাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ব্যবসায়ী পলাশ শেখ বলেন, চাষীদের উৎপাদিত পেঁয়াজ মোকামে বেশি দরে বিক্রি করছে। যে কারণে পাইকারদের বেশি দামে পেঁয়াজ কিনে আনতে হচ্ছে। যার প্রভাব পাইকারি বাজারের ঘুরে খুচরা ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ক্রেতাদের উপর পড়ছে।
বাজারে আসা একাধীক ক্রেতা বলেছেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বর্ষাকে সামনে রেখে পেঁয়াজ মজুদ করে রেখেছেন। এখন কৃষকদের দোহায় দিয়ে দাম ইচ্ছা মতো হাঁকাচ্ছে। যে কারনে চাহিদার তুলনায় বাজারে পেয়াজের ঘাটতি তাই দাম বেশি।
বাজারে আসা ক্রেতা শারমিন বলেন, বাজারে সবজির দাম সহনীয় থাকলেও হঠাৎ পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার মনিটরিং নেই বিধায় ব্যবসায়ীরা রাতারাতি ইচ্ছা স্বাধীন দাম হাকাঁচ্ছে। এ ব্যাপারে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করি।
এ ব্যাপারে ট্রেড কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ টিসিবি’র আঞ্চলিক প্রধান মোঃ আনিসুর রহমান জানান, ঈদের পর থেকে টিসিবি’র কার্যক্রম বন্ধ আছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত আমাদের পণ্য সরবরাহ বন্ধ। পেঁয়াজ সরবরাহের বিষয়ে তিনি জানান, সরকারি কোন নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত কিছু বলা সম্ভব নয়। সব মিলিয়ে দৌলতপুর বাজারে হঠাৎ পেয়াজের দাম বৃদ্ধিতে সাধারন ক্রেতারা যেন হয়ে চরম হতাশায় ভুগছে।

(ঊষার আলো-এমএনএস)