UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চারদিকে পানি সত্ত্বেও পিপাসায় কাতর

ঊষার আলো
মে ২৯, ২০২১ ১১:৩৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো ডেস্ক : চারদিকে শুধু পানি আর পানি। তা সত্ত্বেও পিপাসায় কাতর। যেদিকে চোখ যায়, শুধু পানি। অথচ পানের জন্য নেই এক ফোঁটা। সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের উপকূলজুড়ে নলকূপের পানি লোনা হয়ে গেছে। খাবার পানির একমাত্র ভরসা ছিল পুকুর। ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে জোয়ারে পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় সেটাও এখন পানের উপযুক্ত নাই। বিভিন্ন সংস্থা খাদ্য সহায়তা দিলেও পানির সংকট তীব্র। ফিটকিরি দিয়ে পানি বিশুদ্ধ করলেও লবণাক্ততা যাচ্ছে না। দ্রুত খাবার পানির ব্যবস্থা না হলে দূষিত ও লোনা পানি পান করে অসুস্থ হতে পারে উপকূলের হাজারও মানুষ।
জানা গেছে, বাগেরহাটের মোংলায় প্রায় সাড়ে ৮শ’ পরিবার ইয়াসের জলোচ্ছ্বাসে পানিবন্দি। বুধবার (২৬ মে) প্লাবিত হয়েছে মোড়েলগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকাসহ সদর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। একইভাবে শরণখোলা রামপালসহ বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে জোয়ারের পানিতে।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা শ্যামনগরের গাবুরা ইউনিয়নের জেলেখালি ও নাপিতখালিতে প্রবল জোয়ারের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধ ভেঙে গেছে। কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। শ্যামনগর উপজেলার নীলডুমুর এলাকার পাকা সড়ক উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। ভেঙে গেছে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোড়ের বেড়িবাঁধ।
কালীগঞ্জের কাকশিয়ালি নদীর পূর্ব নারানপুর গ্রামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ায় কালীগঞ্জ হাসপাতালসহ পুরো এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভাঙনের ফলে কপোতাক্ষের পানি পাশের গ্রামগুলোতে ঢুকে পড়েছে। এ ছাড়া আশাশুনির প্রতাপনগরের কুড়িকাহনিয়া লঞ্চঘাট ভেঙে পানিতে সয়লাব হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম।
সুন্দরবন লাগোয়া উপজেলা শ্যামনগর ও আশাশুনির উপকূলীয় বেড়িবাঁধগুলো উপচে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকেছে।
স্বাভাবিক সময়েই উপকূলের মানুষজন খাবার পানির সংকটে থাকেন। অনেককেই বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে হয় খাবারের জন্য। এসব এলাকার মানুষের ভরসা পুকুরের পানি। কিন্তু জোয়ারে পুকুরের পানিও লবণাক্ত হয়ে গেছে। পানির জন্য অনেকেই অন্যত্র যেতে পারছেন না।
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আ ন ম আবুজর গিফারী বলেন, সরকারি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ চলমান আছে। ইতিমধ্যে এক লক্ষ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে। আরও করা হবে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।
বাগেহাটের স্বেচ্ছাসেবক রাসেল আহমেদ বলেন, সরকারি-বেসরকারিভাবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু খাবার পানি কেউ দিচ্ছে না। লোনা পানি দিয়ে রান্নার কাজও করা যায় না।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্ত বলেন, এমনিতেই আমাদের এলাকায় তীব্র খাবার পানির সংকট। জোয়ারে পানি আসায় সংকট আরও বেড়েছে। এ কারণে আগে থেকেই এলাকায় ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রকোপ অনেক বেশি।

(ঊষার আলো-এমএনএস)