ঊষার আলো প্রতিবেদক : নগরীর দৌলতপুরস্থ খুলনা-যশোর মহাসড়কের দু’পাশের অধিকাংশ জায়গা জুড়ে অবৈধভাবে রাখা ইট-বালুর দখলে গোটা মহাসড়ক। দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে ইট-বালু রেখে ব্যবসা করে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যাচ্ছে একশ্রেনীর মহল। কিন্তু এর বিপরীতে এ সকল ইট-বালু রাখার ফলে নগরীকে গ্রীন এন্ড ক্লিন সিটিতে পরিণত করার যে মহৎ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে তা যেন বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে অন্যদিকে মহাসড়ক দিয়ে চলাচলরত যানবহন প্রতিনিয়ত থাকলে দুর্ঘটনার ঝুঁকির সম্ভাবনায়। সরেজমিনে, নতুনরাস্তা মোড়স্থ কবরস্থান সংলঘ্ন, হাঁস খামারের বিপরীতে, শশীভূষণ স্কুলের বিপরীতসহ বেশ কয়েকটি স্থানে খুলনা যশোর মহাসড়কের দু’পাশে নজরে মিলছে এ ইট-বালুর অবস্থান। সড়ক বিভাগের মতে, মহাসড়ক হতে সড়কের দু’পাশে ৩০ ফুট জায়গা ছেড়ে দিয়ে যে কোন স্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এবং এ সকল স্থাপনার মালিকগনকে প্রতিষ্ঠান একাধিক বার মহাসড়কের পাশে রাখা ইট-বালু সরিয়ে নেয়ার জন্য বলা হলেও সড়ক বিভাগের নির্দেশনার তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশের ফুটপথ বা ফাঁকা জায়গা দখল করে দিদারছে ব্যবসা করে যাচ্ছে।
এলাকাবাসী জানান, সড়কের গায়ে ইট-বালু রাখার দরুন সড়ক দিয়ে চলাচল রত বাস, ট্রাকসহ মাঝারী, ছোট বড় যান চলাচলের সময় ওভারট্রেকিং করার কারণে অনেক সময় এ যানগুলো চাপ খেয়ে ফুটপথে নেমে যাওয়ার দরুন দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। তাছাড়া সামান্য বাতাস ছাড়লে বালুর ধূয়ায় ঘরবাড়ি বেহাল দশা দৃষ্টি হয়। আর রাস্তা দিয়ে চলাচল কলে বাতাসে ইট-বালুর ধূলা চোখে মুখে ঢুকে বেগতিক অবস্থার সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা এ সমস্যার হতে দ্রুত আশু মুক্তি চায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট।
মটরসাইকেল আরোহী মুশফিক সোলায়মান জানান, খুলনা-যশোর মহাসড়কের পাশের ফুটপথ সম্পূর্ণ বিপজ্জনকভাবে ইট-বালু বোঝাই করে রাখা হয়েছে। রাস্তাদিয়ে চলাচলের সময় ধূলা এসে চোখে ঢুকে যেয়ে অনেক সময় গাড়ি কন্ট্রোলিং করতে অসুবিধা হয়। যে কারণে চোখে চশমা বাধ্যতামূলক পড়তে হয়। তাছাড় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটে যানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তাই সড়ক বিভাগের নির্দেশ অনুসারে দ্রুতই এই ঝুঁকিপূর্ণ ইট-বালু অপসারণের জোরদার দাবি জানাচ্ছি।
সিএনজি চালক সজিব বলেন, ইচ্ছাস্বাধীন এলোমেলো অবস্থায় এ রকম গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে এখানে-সেখানে বিপজ্জনকভাবে ইট-বালুর স্তুপ রাখা হয়েছে। এতে এ সড়কে চলাচলকারী মানুষ ও যানবাহন বিশাল ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। আমরা নিরাপদ চলাচলের জন্য এ ইট-বালু সরিয়ে নেয়ার আবেদন করছি।
এ ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কেসিসি’র ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, জনদূর্ভোগ আর জন সাধারণের চলাচলে বাঁধা সৃষ্টি করে কোন কাজই করা আইনত অপরাধ। সুতরাং যারা মহাসড়কের পাশে ইট বালু রেখে ব্যবসা করছে জনদূর্ভোগ আর জন চলাচলের স্বার্ধে সড়ক অবমুক্ত করে অন্যত্র ব্যবসা করা উচিত বলে আমি বলে করি।
এ ব্যাপারে কেসিসি’র স্ট্রেট অফিসার মোঃ নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, মহাসড়ক পাশে যে ইট-বালুর অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে সে ব্যাপারে আমি অবগত। দীর্ঘ লকডাউন চলার কারণে কোন অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। যেহেতু এখন করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক, তাই দ্রুতই মহাসড়কে পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ কেবল ইট বালূ নয় বরং অন্যন্যা অবৈধ প্রতিষ্ঠানের উচ্ছেদের ব্যাপারে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
(ঊষার আলো-এমএনএস)
