ঊষার আলো রিপোর্ট : ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় এ মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। বতর্মান বাজারে চালের দামের তুলনায় ধানের ন্যায্য দাম না পেয়ে, হতাশা মুক্তাগাছার কৃষকরা। টানা বৃষ্টিতে চড়া দামে ধান কেটে সোনার ফসল ঘরে তুলতে হয়েছে তাদের।
কৃষকরা বলছেন চলতি মৌসুমে ফলোন ভালো হলেও এ বছর উৎপাদন খরচও হয়েছে দ্বিগুণ। বতর্মান বাজারে যে দামে ধান বিক্রি হচ্ছে,তাতে লাভের বদলে উল্টো লোকসানের শঙ্গায় হতাশার ছাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে কৃষকদের চোখে মুখে।
এবছর একজন শ্রমিকের মজুরি দিতে কৃষকের বিক্রি করতে হয়েছে প্রায় দুই মণ ধান। শ্রমিক সংকটে বহুকষ্টে ধান ঘরে তুললেও বাজারে চালের দাম আকাশচুম্বী পক্ষান্তরে ধানের দাম নিম্নমুখী। সঙ্গত কারণে ধানের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন উপজেলা ধান চাষীরা।
স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এব ছর কাঠাপ্রতি জমি চাষ করতে খরচ হয়েছে ৩০০ টাকা, ধানের চারা রোপণ করতে খরচ হয়েছে ৫০০ টাকা। বিপরীতে রোদে শুকনো ধান ৯০০ থেকে ৯৫০ টাকা আর বেশি শুকনো ধান ১০০০ থেকে ১০৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বীজ কেনা, আগাছা পরিষ্কার, পানি সেচ, সার-কিটনাশক প্রয়োগ, ধানকাটা ও মাড়াই খরচ বাদ দিলে এ বছর ধান চাষিরা লাভের মুখ দেখবে না বলে জানিছেন উপজেলার সত্রাশিয়ার কৃষক আইয়ুব আলী, লক্ষীখোলার জমশেদ,বড়গ্রামের আব্দুল হাই, বাঁশাটির নিতাই পাল, ঘোগার শফিকুল,মহিশতারার শাকিল মিয়াসহ অনেকেই।এমন অবস্থায় ধান চাষের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলছেন সাধারণ কৃষক। চাষে লাভ না পেয়ে ধান চাষের বিকল্প খুঁজছেন উপজেলার ধান চাষিরা।
অন্যদিকে কৃষি অফিস বলছে, শিগগিরই বোরো ধান সংগ্রহ করা শুরু হবে। চলতি এ মৌসুমে প্রতিমণ ধানের দাম ১০৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে চলতি মৌসুমে বরো ধানের আবাদ হয়েছে ১৯ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে। ধানের ফলনও ভালো হয়েছে কিন্তু এ মৌসুমে টানা বৃষ্টির কারণে ফসল ঘরে তুলতে কিছু বেগ পেতে হয়েছে কৃষকদের।
এ নিয়ে কথা বলা হয় উপজেলার ধান ব্যবসায়ী তাহের মিয়া,ওয়াহাব আলী,রঙ্গলাল বাবুর সাথে।
তারা বলেন, ধানের মিলাররা দাম নির্ধারণ করে দিয়েছেন তাই এর বেশি নেওয়া সম্ভব না। তাছাড়াও এ বছর টানা বৃষ্টিতে বেশিরভাগ ধানের কালার নষ্ট হয়ে গেছে। ধানের প্রকারভেদে আমরা ধান ক্রয় করে করছি। রোদে শুকানো ধান ৯৫০ থেকে ১০৫০ আবার বেশি শুকানো ধান ১১০০ থেকে ১১৫০ দরে কিনছি।
সত্রাশিয়া গ্রামের কৃষক আলতাব আলী জানান, এত কষ্ট করে রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে ধান আবাদ করেছি ঠিক কিন্তু শ্রমিক সংকটে এবার ধান ঘরে তুলতে খুবই কষ্ট হয়েছে। আবার কিছু ধান নষ্টও হয়ে গেছে। কোনমতে ধান ঘর তুলতে পারলেও ধানের সঠিক দাম নেই। জমির আইল বাধা, সার ছিটানো, কীটনাশক ব্যবহার করাসহ কাঠাপ্রতি যে খরচ হয়েছে, ধান বিক্রি করে সেই খরচ তুলতেই এবছর হিমিশিম খেতে হচ্ছে।
মন্ডলসেন গ্রামের কৃষক বিল্লাল মিয়া বলেন, ধান ঘরে তুলতে একজন শ্রমিকের মজুরি দিয়ে হয়েছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা। লাভের কথা আপনারা কিভাবে বলছেন। লাভ দরকার নাই ভাই! ভাবছি সামনের বছর থেকে আর ধান চাষ করব না। ধানের পরিবর্তে বিকল্প চিন্তাভাবনা করব।
মুক্তাগাছা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো.সাইফুল ইসলাম জানান,অনেক কৃষক আমাদের কাছে ধান সংগ্রহের করতে আবেদন করেছেন। সরকারি নির্দেশনা পেলেই শিগগিরই ধান সংগ্রহের কাজ শুরু করা হবে।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সেলিনা পারভীন জানান, চলতি বছরে উপজেলায় ১৯ হাজার ১৯০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে। খুব শিগগিরই সরকারিভাবে ধান ক্রয় শুরু হবে।
ঊষার আলো-এসএ
