ঊষার আলো প্রতিবেদক : সম্প্রীতি ফোরাম ও মহেশ্বরপাশা দলিত কমিউনিটি সংঘের উদ্যোগে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপিএর রেলিগেট কার্যালয়ো করোনা মোকাবেলায় অসহায় দলিত ও হরিজন জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানসহ অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয় । সভায় সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো: শাহাবুদ্দিন আহমেদ। সভায় খুলনা সদর, সিটি করর্পোরেশন এলাকায় যে সকল দলিত ও হরিজন বিশেষকরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ঋষি, কায়পুত্র, জেলে, নাপিত সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে তারা কিছু সংখ্যক আছে যারা শিক্ষার দিক দিয়ে এগিয়ে থাকলেও চাকুরিতে সুযোগ ও কর্মসংস্থান কোনটাই পাচ্ছে না। এছাড়া বিশেষকরে হরিজন সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা এখনও শিক্ষামুখী হয়ে ওঠেনি, আর এ কারনেই স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় তারা নানারকম প্রতিবন্ধকতার শিকার হয় প্রতিনিয়ত। এরই ধারাবাহিকতায় দলিত হরিজন সমাজের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সরকারের বৈষম্য বিলোপ সংক্রান্ত আইন প্রনয়ন, পাবলিক ও প্রাইভেট ক্ষেত্রে অস্পৃশ্যতার চর্চা শাস্তিযোগ্য হিসাবে বিবেচনা করা, প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত চাকুরি ও কর্মসংস্থানে দলিত হরিজনদের অগ্রাধিক দেওয়া, সরকারী, বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের ক্ষেত্রে দলিত হরিজনদের জন্য কোটা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, দলিত ও হরিজন শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তিক্ষেত্রে শতভাগ প্রবেশাধিকার নিশ্চত করা, সিটি কর্র্পোরেশন ও পৌরসভায় হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য চাকুরি নীতিমালা যুগোপযোগী করা, সরকারের গৃহায়ন কর্মসূচিতে তাদের অন্তভূক্তি নিশ্চিত করা, দলিত হরিজনদের জন্য সরকারী খাস জমির স্থায়ী বন্ধবস্ত নিশ্চত করা, সরকারী সেফটিনেট, করোনা প্রনোদনা ও দরিদ্র বিমোচন কর্মসূচিতে অন্তভূক্তি করা, দলিত কমিউনিটির অভ্যন্তরে রাস্তাঘাট, পানি ও পয়ঃনিষ্কাষন ব্যবস্থা নিশ্চিত করনের দাবিতে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপির নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। পিছিয়ে পড়া দলিত হািরজন গোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ণের লক্ষ্যে বিভিন্ন সেবায় অর্ন্তভুক্তি করনে দলিত কমিউনিটি সংঘ ও সম্প্রীতি ফোরাম এর লিডাররা সুপারিশ পেশ করেন। সভার সভাপতি শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো: শাহাবুদ্দিন আহমেদ, মহেশ্বরপাশা মন্দিরের পাশে পুকুর স্বরুপ সরকারী যে খাস জমি আছে তা মন্দিরের অধিনস্ত করনের জন্য সভা চলাকালীন সময়ে মুঠো ফোনের মাধ্যমে দায়িত্বরত উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের
নিকট সুপারিশ করেন এবং পাশাপাশি আরও বলেন, পরবর্তীতে মন্দিরের জন্য বরাদ্দ আসলে গাছতলা মন্দিরের জন্য বরাদ্দর ব্যবস্থা করবেন। প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরও জনান আমাদের এলাকায় দলিতদের
উন্নয়নের জন্য আমরা সবরকম উন্নয়ন মূলক কাজই করে থাকি। তাদের যদি কোনো সমস্যা হয় তবে কাউন্সিলর অফিস কর্তৃক তা জানালে সেটা অতিসত্তর সমাধানের চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি কমিউনিটি লিডারদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করে বলেন, সমাজসেবা কর্তৃক দলিত ভাতার জন্য সকল ৫০ বছরের উর্দ্ধে মানুষের ভোটার আউডি কার্ডের ফটোকপি ও ছবি সংগ্রহ করে কাউন্সিলর অফিসে জমা দিতে যাতে সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগের মাধ্যমে সকলেকে উক্ত ভাতার অন্তভূক্ত করার ব্যবস্থা করা যায়। এছাড়া পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগে দলিত হরিজন জনগোষ্ঠীর প্রাধান্য আগে দেবেন বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। উক্ত সভা অনুষ্ঠানে মো: সাবির খান, নির্বাহী সচিব, কালীপদ দাস, নির্বাহী সদস্য, সম্প্রীতি ফোরাম, মো: আব্দুস সালাম, ০৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর, মো: মাকসুদ হাসান পিকু, ওয়ার্ড সেক্রেটারি, নারায়ন চন্দ্র দাস, সদস্য , সম্প্রীতি ফোরাম, এছাড়া এলাকার প্রতিনিধি স্বরুপ দিলিপ দাস, রতন কুমার দাস, খোকন দাস, পাগল দাস, সহ দলিত সংস্থা থেকে জুলি বাড়ৈ, লক্ষ্মী দাস ও পার্থ প্রতীম দে উপস্থিত ছিলেন।
(ঊষার আলো আরএম)
