খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) জাঁকজমকপূর্ণভাবে শুরু হয়েছে ৭ম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইলেকট্রিক্যাল ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (ইআইসিটি–২০২৫)। বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) অনুষদের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, এনডিসি, এমসিআইপিএস (সিএস)। তিনি বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা জরুরি। কুয়েটের এই আয়োজন তরুণ গবেষকদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরতে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।
অনুষ্ঠানের চিফ প্যাট্রন ও কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ মাকসুদ হেলালী তাঁর বক্তব্যে বলেন, বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এই সম্মেলনে উপস্থাপিত গবেষণাপত্র থেকে প্রাপ্ত ফলাফল দেশের শিল্পখাতের সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইইই) বাংলাদেশ সেকশনের চেয়ার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমামুল হাসান ভূঁইয়া। সম্মেলনের কারিগরি কমিটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কুয়েটের ইইই বিভাগের প্রফেসর ড. মুহাঃ রফিকুল ইসলাম এবং কনফারেন্স চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ইইই অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ রফিকুল ইসলাম। অর্গানাইজিং চেয়ার হিসেবে রয়েছেন কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রফেসর ড. কাজী মোঃ রকিবুল আলম। পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা ও ব্যবস্থাপনায় ছিলেন অর্গানাইজিং সেক্রেটারি ও সিএসই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শেখ ইমরান হোসেন।
১৮ থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলমান এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইলেকট্রিক্যাল ও আইসিটি খাতের আধুনিক গবেষণা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা আলোচনা করবেন। আইইইই-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই সম্মেলনে বিশ্বের ১৫টি দেশ থেকে জমা পড়া ১ হাজার ৪২টি গবেষণাপত্রের মধ্য থেকে বাছাইকৃত ১৪২টি টেকনিক্যাল পেপার মোট ২৫টি টেকনিক্যাল সেশনে উপস্থাপন করা হবে।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, জাপান, কানাডা, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ভারত ও বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের গবেষক, শিক্ষক, প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদরা অংশগ্রহণ করছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, আমন্ত্রিত অতিথি এবং দেশি-বিদেশি গবেষকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সন্ধ্যায় সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (ইন্টারগভর্নমেন্টাল অর্গানাইজেশনস অ্যান্ড কনস্যুলার অ্যাফেয়ার্স) এম. ফরহাদুল ইসলাম।
ঊআ-মোহন চৌধুরী
