খুলনা-৩ আসনের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী গণসংযোগ ও মিছিল ঘিরে ব্যাপক মানুষের সমাগম লক্ষ্য করা গেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগরী আমীর ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সরু গলি থেকে প্রধান সড়ক—সবখানেই ছিল মানুষের উপস্থিতি। নারী-পুরুষ, তরুণ-কিশোর, শ্রমিক, কর্মজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে দেয়ানা এলাকা পরিণত হয় জনসমাগমে।
গণসংযোগে প্রার্থী বিভিন্ন স্থানে থেমে স্থানীয় বাসিন্দাদের কথা শোনেন। তিনি বলেন, “আমি ভোট চাই ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের হক আদায়ের দায়িত্ব নিতে।” নির্বাচিত হলে এলাকার মানুষের পাশে থেকে দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা পানির সংকট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান, মাদক ও কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। এসব বিষয়ে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান ওয়ার্ডভিত্তিক কর্মপরিকল্পনার কথা জানান। তাঁর অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, আধুনিক ড্রেনেজ ও জলাবদ্ধতা নিরসন, শ্রমিক ও যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়ন, নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম এবং মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠন।
তিনি আরও বলেন, ন্যায় ও মানবিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে রাজনীতি পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।
গণসংযোগ ও মিছিলে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন খুলনা মহানগর সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরাফাত হোসেন মিলন, দৌলতপুর থানা জামায়াতের আমীর মোশাররফ আনসারীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ছাত্র, শ্রমিক ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
কর্মসূচি শেষে নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের কেউ কেউ সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, মাঠপর্যায়ে এমন গণসংযোগ ভোটারদের সঙ্গে প্রার্থীদের সরাসরি সংযোগ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ঊআ-রহমাতুল্লাহ
