UsharAlo logo
, |

চাঞ্চল্যকর ত্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন, মূলহোতাসহ ৩ জন গ্রেফতার — কেএমপি

ঊষার আলো ডেস্ক
নভেম্বর ২৯, ২০২৫ ৭:৩৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খুলনার লবণচরা এলাকায় ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ত্রিপল মার্ডারের রহস্য উদঘাটন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত ১৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে লবণচরা থানা এলাকায় একই পরিবারের তিনজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। নিহতরা হলেন—দুই শিশু ফাতিহা (৭), মুস্তাকিম (৮) এবং তাদের নানি মহিতুন্নেছা (৫৩)।

এই ঘটনায় ১৮ নভেম্বর লবণচরা থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু হয়। মামলার বাদী সেফার আহম্মেদ ও গ্রেফতারকৃত মূলহোতা মোঃ শামীম শেখ ওরফে শেখ শামীম আহম্মেদ মামাতো-ফুফাতো ভাই। জমি-জমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। অস্ত্র মামলায় জেলে থাকা অবস্থায় শামীম শেখ একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের সদস্যদের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলে। জেল থেকে বের হয়ে বড় অঙ্কের টাকা দিয়ে তাদের ভাড়া করে প্রতিপক্ষের পরিবারকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ১৬ নভেম্বর সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে সেফার আহম্মেদের বাড়িতে প্রবেশ করে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায় শামীম শেখ। ঘটনার পর তিনি পলাতক হয়ে বিদেশে পালানোর চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। আদালতে ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দীও দিয়েছেন তিনি।

গ্রেফতারকৃত শামীম শেখের বাবার নাম রুস্তম আলী, সাং-হোল্ডিং নং ৮০৭, দেয়াড়া, থানা রূপসা, জেলা খুলনা। তার বিরুদ্ধে পূর্বে অস্ত্র আইনের একটি মামলাও রয়েছে।

এ ঘটনায় ইতোমধ্যে আরও দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে—
১) তরিকুল ইসলাম তারেক (২৬), পিতা মোঃ আজহারুল ইসলাম আরজু, সাং-মোল্লাপাড়া (আর্জুর কালভার্ট), থানা-লবণচরা। তার বিরুদ্ধে ১টি মাদক মামলা রয়েছে।
২) তাফসির হাওলাদার (২০), পিতা মোঃ বাবুল হাওলাদার, সাং-জিন্নাহপাড়া, থানা-লবণচরা। তার বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের ২টি মামলা রয়েছে।

অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে কেএমপি।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন কেএমপি’র অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এ্যাডমিন এন্ড ফিন্যান্স) জনাব আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ। এসময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মোঃ শিহাব করিম; সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) ত. ম রোকনুজ্জামান; সহকারী পুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার টু পিসি) মোঃ গোলাম মোর্শেদ এবং লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ হাওলাদার সানওয়ার হুসাইন মাসুমসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।

কেএমপি জানিয়েছে, এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে তারা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ঊআ-মোহন চৌধুরী