UsharAlo logo
, |

দাকোপে পৌরসভার ৪০ লাখ টাকার রোলার কাটার সময় আটক ৩, হয়নি মামলা—প্রশাসকের হস্তক্ষেপের অভিযোগ

ঊষার আলো ডেস্ক
মার্চ ৫, ২০২৬ ৮:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খুলনার দাকোপে চালনা পৌরসভার প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের একটি রোড রোলার কেটে পাচারের সময় তিনজনকে আটক করা হলেও রহস্যজনক কারণে এ ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। উল্টো আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে পৌর প্রশাসকের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১ মার্চ রোববার দুপুরের পর দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও চালনা পৌরসভার প্রশাসক মোঃ বোরহান উদ্দিন মিঠু সরকারি খাল খননের উদ্দেশ্যে পৌরসভার সাতঘরিয়া এলাকায় যান। এ সময় সেখানে থাকা চালনা পৌরসভার প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ৬ টনের একটি রোড রোলার কাটতে দেখে তিনি বিষয়টি জানতে চাইলে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা দাবি করেন, স্থানীয় অজয় তরফদার গংদের মাধ্যমে তারা রোলারটি কিনেছেন। একপর্যায়ে অজয় তরফদার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে সরকারি সম্পদ চুরি ও পাচারের অভিযোগে তাকেসহ তিনজনকে দাকোপ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় রোলারের কাটা অংশ এবং কাটার কাজে ব্যবহৃত গ্যাস সিলিন্ডার, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও কাটার মেশিন জব্দ করে পৌর প্রশাসন।

তবে পরবর্তীতে এ ঘটনায় কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এমনকি আটক ব্যক্তিদের ছাড়িয়ে নিতে প্রশাসনের ভূমিকা ছিল বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে দাকোপ থানার ওসি (তদন্ত) প্রকাশ বোস বলেন, ইউএনও’র নির্দেশে ঘটনাস্থল থেকে বাগেরহাটের রামপাল থানার ইজার শেখ (১৬), কবির শেখ (২৬) এবং দাকোপের খাটাইল গ্রামের অজয় তরফদার (৪৮)-কে আটক করে থানায় আনা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, দাকোপের অজয়, মিকাইল, মিজান ও মাজেদুল তাদের কাছে রোলারটি বিক্রি করেছে।

তিনি আরও জানান, পরবর্তীতে কোনো মামলা না হওয়ায় ইউএনও’র নির্দেশে অজয় তরফদারকে থানার গেট থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অপর দু’জনকে তাদের পরিবারের জিম্মায় মুক্তি দেওয়া হয়।

এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিরা স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এ কারণেই মামলা না দিয়ে বরং অভিযুক্তদের ছেড়ে দিতে পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, “আমি তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। এরপর পুলিশ কী করেছে, তা আমি জানি না।”

ঘটনাটি নিয়ে দাকোপে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে হাতেনাতে সরকারি সম্পদ কাটার ঘটনা ধরা পড়ার পরও আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং অভিযুক্তদের মুক্তি দেওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

ঊআ-মোচৌ