UsharAlo logo
, |

দাকোপে ৪০ লাখ টাকার রোড রোলার কেটে পাচারকালে ৩ জন আটক, রহস্যজনকভাবে মামলা হয়নি

ঊষার আলো ডেস্ক
মার্চ ৭, ২০২৬ ৫:০৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

খুলনার দাকোপে চালনা পৌরসভার প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের একটি রোড রোলার কেটে পাচারের সময় তিনজনকে আটক করা হলেও রহস্যজনক কারণে এ ঘটনায় কোনো মামলা করা হয়নি। উল্টো আটক ব্যক্তিদের ছাড়াতে পৌর প্রশাসকের হস্তক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে।

তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১ মার্চ রবিবার দুপুরের পর দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও চালনা পৌরসভার প্রশাসক মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু সরকারি খাল খননের উদ্দেশ্যে পৌরসভার সাতঘরিয়া এলাকায় যান। এ সময় সেখানে রাখা চালনা পৌরসভার প্রায় ৪০ লাখ টাকা মূল্যের ৬ টন ওজনের একটি রোড রোলার কেটে ফেলতে দেখে তিনি জানতে চাইলে কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে দুজনকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা দাবি করেন, স্থানীয় অজয় তরফদার গংদের মাধ্যমে তারা পৌরসভার রোলারটি কিনেছেন। কথা বলার এক পর্যায়ে সেখানে অজয় তরফদার উপস্থিত হলে সরকারি সম্পদ চুরি ও পাচারের অভিযোগে তাকেসহ তিনজনকে দাকোপ থানা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পৌর প্রশাসন ঘটনাস্থল থেকে রোলারের কাটা অংশ, গ্যাস সিলিন্ডার, অক্সিজেন সিলিন্ডার ও কাটার সরঞ্জাম জব্দ করে নিয়ে আসে। তবে পরবর্তীতে রহস্যজনকভাবে এ ঘটনায় কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি আটক ব্যক্তিদের ছাড়াতে প্রশাসনের ভূমিকা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দাকোপ থানার ওসি (তদন্ত) প্রকাশ বোস জানান, ইউএনও’র নির্দেশে ঘটনাস্থল থেকে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার ইজার শেখ (১৬), কবির শেখ (২৬) এবং দাকোপের খাটাইল গ্রামের অজয় তরফদার (৪৮) কে আটক করা হয়।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায় দাকোপের অজয়, মিকাইল, মিজান এবং মাজেদুল তাদের কাছে রোলারটি বিক্রি করেছে। কিন্তু পরবর্তীতে কোনো মামলা না হওয়ায় ইউএনও’র নির্দেশে অজয় তরফদারকে থানার গেট থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয় এবং অপর দুইজনকে তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চালনা পৌরসভা কৃষক দলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অজয় তরফদারসহ সংশ্লিষ্টরা স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের সাথে জড়িত। এ কারণে নির্বাহী কর্মকর্তা মামলা না দিয়ে বরং পুলিশকে তাদের ছেড়ে দিতে নির্দেশ দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেন, “আমি তাদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছি। কিন্তু পরে পুলিশ কী করেছে তা আমি জানি না।”

ঘটনাটি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্বয়ং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অপরাধীদের হাতেনাতে ধরার পরও আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং অভিযুক্তদের ছেড়ে দেওয়া দাকোপের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও আইনের শাসন নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ঊআ-মোহন চৌধুরী