UsharAlo logo
, |

নীরব হলো আপসহীন কণ্ঠ, শোক থেকে শক্তিতে রূপান্তরের আহ্বান

ঊষার আলো ডেস্ক
জানুয়ারি ১৪, ২০২৬ ৯:৪২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি এক গভীর বেদনাবিধুর মুহূর্তে। এই শোক কেবল একজন মানুষের বিদায়ের শোক নয়—এটি একটি যুগের অবসান, একটি সংগ্রামী অধ্যায়ের সমাপ্তি এবং একটি আপসহীন কণ্ঠের নীরব হয়ে যাওয়া। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত নাগরিক শোক সভায় বক্তারা আবেগঘন ভাষায় এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বাতিঘর। আজ সেই বাতিঘরের আলো নিভে গেলেও তাঁর দেখানো পথ কখনো হারিয়ে যাবে না। ইতিহাস তাঁকে স্মরণ রাখবে আপসহীন নেতৃত্ব, অদম্য সাহস, ত্যাগ ও জনগণের অধিকারের এক অবিস্মরণীয় প্রতীক হিসেবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা মহানগর বিএনপির উদ্যোগে নগরীর শহীদ হাদিস পার্কে আয়োজিত নাগরিক শোক সভায় বক্তারা বলেন, একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে রাষ্ট্রনায়কে পরিণত হওয়ার অনন্য ইতিহাস বেগম খালেদা জিয়া নিজের জীবন দিয়েই রচনা করে গেছেন। স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারানোর শোক তাঁকে ভেঙে দেয়নি; বরং সেই শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি হয়ে উঠেছিলেন নিপীড়িত মানুষের আশ্রয়স্থল ও গণতন্ত্রকামী মানুষের ভরসা।

শোক সভায় বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক ও খুলনা-৪ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল বলেন, স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু, কারাগারের নির্যাতন, মামলা-হামলা—কিছুই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মাথা নত করাতে পারেনি। তিনি জানতেন, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু জনগণের ভোটাধিকার ও মানুষের অধিকার চিরন্তন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেননি এবং সবসময় একজন রাষ্ট্রনায়কের মর্যাদা বজায় রেখেছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য ও খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনীতি ছিল মানুষের ভোটাধিকার, বাকস্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের রাজনীতি। এই আদর্শ ধারণ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।

বক্তারা আরও বলেন, আজ দেশনেত্রী শারীরিকভাবে আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু তাঁর ত্যাগ, সাহস ও সংগ্রাম আমাদের বিবেককে প্রতিনিয়ত জাগ্রত রাখবে। যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন খালেদা জিয়া থাকবেন—মানুষের অধিকার রক্ষার এক অবিনশ্বর প্রতীক হয়ে।

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এডভোকেট শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত শোক সভায় শোক প্রস্তাব পাঠ করেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম তুহিন। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া সভায় আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু, ড্যাব খুলনার সভাপতি ডা. রফিকুল হক বাবলু, খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, এমইউজে খুলনার সভাপতি রাশিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

শোক সভা শেষে মরহুমা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

ঊআ-মোহন চৌধুরী