UsharAlo logo
, |

নৌবাহিনীর নিজস্ব প্রযুক্তিতে খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত এলসিটি-১০১ এর সফল লঞ্চিং

ঊষার আলো ডেস্ক
জানুয়ারি ১৬, ২০২৬ ৫:১৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন ও ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনা শিপইয়ার্ডে নিজস্ব সক্ষমতায় নির্মিত ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক (এলসিটি)-১০১ এর লঞ্চিং উদ্বোধন করেছেন নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান।

খুলনা, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬:
নৌবাহিনীর আধুনিকায়ন এবং নৌবহরের ত্রিমাত্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে নির্মিত ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক (এলসিটি)-১০১ এর লঞ্চিং অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) খুলনা শিপইয়ার্ড প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে লঞ্চিংয়ের শুভ উদ্বোধন করেন মাননীয় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান। এ সময় নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড কর্তৃক মোট তিনটি ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনীর নিজস্ব সক্ষমতায় এবং কানাডার ভার্ড মেরিন ডিজাইনের প্রযুক্তিগত সহায়তায় এলসিটি-১০১ নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়। এই জাহাজ উপকূলীয় অঞ্চলে সেনা ও নৌবাহিনীর সমন্বিত এফিবিয়াস অপারেশনে ট্যাংক, আর্টিলারি ও এপিসিসহ ভারী সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি শান্তিকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা ও উদ্ধার অভিযানে এই এলসিটি কার্যকর অবদান রাখবে।

প্রযুক্তিগত দিক থেকে প্রতিটি এলসিটি ছয়টি ট্যাংক অথবা বারোটি এপিসি কিংবা আঠারোটি সামরিক যান বহনে সক্ষম। এসব জাহাজ নৌবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ও জাহাজ নির্মাণ প্রযুক্তির অগ্রগতির একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রূপসা নদীর তীরে অবস্থিত খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড বাংলাদেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতকারী প্রতিষ্ঠান। ১৯৫৭ সালে প্রতিষ্ঠার পর ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে আসার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি নতুন গতিতে এগিয়ে যায়। বর্তমানে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বাণিজ্যিক ও যুদ্ধজাহাজ নির্মাণে খুলনা শিপইয়ার্ড দেশ-বিদেশে সুপরিচিত।

আন্তর্জাতিক মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা অনুসরণ করে বিএভি, ডিএনভি-জিএল, এনকেকে, সিসিএস, এলআর, রিনা ও এবিএসসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ক্লাসিফিকেশন সোসাইটির তত্ত্বাবধানে এখানে জাহাজ নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ৭০০ কোটি টাকার বার্ষিক টার্নওভার, বছরে তিন হাজার টন স্টিলওয়ার্ক সক্ষমতা এবং আট শতাধিক জলযান নির্মাণের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে খুলনা শিপইয়ার্ড আজ দেশের শিল্পখাতে একটি শক্তিশালী ও আস্থাশীল ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে।

এছাড়া পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার ও সবুজায়নের মাধ্যমে ইকো-ফ্রেন্ডলি শিল্প প্রতিষ্ঠান হিসেবে খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় কর্তৃক ‘গ্রীন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’ অর্জন করেছে, যা প্রতিষ্ঠানটির টেকসই শিল্প উন্নয়নের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঊআ-মোহন চৌধুরী