বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য, খুলনা মহানগর আমীর ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা ছাড়া এই অঞ্চলের বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়। কর্মসংস্থানভিত্তিক উন্নয়ন ছাড়া সামাজিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা যায় না। একই সঙ্গে তিনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দিনব্যাপী খুলনা-৩ সংসদীয় আসনের অন্তর্গত যোগিপোল ৬ নং ইউনিয়নের জাবদিপুর ও তেলেগাতি গ্রামের বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত উঠান বৈঠক ও জনসংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
জনসংলাপে বক্তৃতায় অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেন, দাড়িপাল্লা প্রতীকের রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ন্যায্য প্রত্যাশার সামঞ্জস্য রয়েছে। নির্বাচিত হলে শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবহেলিত এলাকার উন্নয়ন বিষয়ে সংসদে নীতিগতভাবে জোরালো ভূমিকা রাখা হবে।
বৈঠকে স্থানীয় জনগণ শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত দৌলতপুর-যোগিপোল এলাকার দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা, বন্ধ মিল-কারখানা এবং ক্রমবর্ধমান বেকারত্বের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। বিশেষভাবে সোনালী জুটমিলস লিমিটেড ও এ্যাজাক্স জুটমিলস লিমিটেড দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় হাজারো শ্রমিকের কর্মহীন হয়ে পড়ার বিষয়টি উঠে আসে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বিকল্প কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে, বেড়েছে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া ও সামাজিক সমস্যা।
শিল্প সংকটের পাশাপাশি স্থানীয়রা ভাঙাচোরা রাস্তা, জলাবদ্ধতা, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিরাপদ পানির অভাব, স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা অভিযোগ করেন, উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়ন হয় না, ফলে এলাকার মানুষের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন ঘটছে না।
এ সময় দৌলতপুর থানা জামায়াত ও বিভিন্ন ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, খেলাফত মজলিস, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক স্থানীয় নারী-পুরুষ জনসংলাপে অংশ নেন।
ঊআ-রহমাতুল্লাহ
