সকাল থেকে দু’একজন করে জড়ো হতে থাকে বন্ধুসভার বন্ধুরা। ঝলসানো রোদের ঊষ্ণ গরমের মাঝে প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যাপিঠের মাঠে জড়ো হয়। খুলনা বন্ধুসভার আয়োজনে তরুণ প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করার উদ্দেশে ‘বন্ধুসভা মুক্তিযুদ্ধ অলিম্পিয়াড ২০২৬’ এ বিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল দশটায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে হয় সূচনা।
বেলা ১১টা থেকে ১১টা ২০ মিনিট পর্যন্ত চলে কুইজ প্রতিযোগীতা। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ৩০টি এমসিকিউ প্রশ্নের পাঁচজনকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
খুলনা বন্ধুসভার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহমাতুল্লাহর সঞ্চালনায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক আলোচনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বটিয়াঘাটা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সহকারী কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন কুমার রায়। উপস্থিত ছিলেন প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যাপিঠের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার রায়, সিনিয়র শিক্ষক আফজাল হোসাইন, তনুজা কবিরাজ, তাপসী মন্ডল। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান। আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন খুলনা বন্ধুসভার সভাপতি স্বর্ণকমল রায়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন কুমার রায় শিক্ষার্থীদের বলেন, স্বাধীনতা এক গোলাপ ফোটানো দিন। দীর্ঘ নয় মাসের সংগ্রামে আমরা স্বাধীনতা এনেছি। তোমরাই গোলাপ, তোমরাই ফুটাবে গোলাপ। তোমাদের মেধা দিয়ে এদেশকে গড়ে তুলবে।
তিনি বলেন, ২৪শে এপ্রিল চক্রাখালিতে একটি হত্যাকান্ড সংঘটিত হয়। চক্রাখালি হাইস্কুলের সামনে কাজীবাছা নদীতে পাকিস্তানি দু’টি গানবোট এসে ছিন্নভিন্ন করে গ্রামে নেমে পড়ে। চক্রাখালি, গল্লামারি, জলমা ইউনিয়নসহ কয়েকটি গ্রাম সম্পূর্ণভাবে পুড়িয়ে দেয়। ১৯শে বাদামতলায় গণহত্যায় ২০জন লোক মারা যায়। ২০মে চুকনগর গণহত্যায় ২০ হাজার লোক মারা যায়।
নিরঞ্জন কুমার রায় বলেন, আমাদের সর্বশেষ যুদ্ধ হয় গল্লামারী বেতার কেন্দ্রে। ১৬ ডিসেম্বর এবং ১৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানি সেনাদের সাথে আমাদের সরাসরি যুদ্ধ হয়। ১৬ ডিসেম্বর সারা দেশে বিজয় হলেও খুলনা ১৭ ডিসেম্বরে মুক্ত হয়।
প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যাপিঠের প্রধান শিক্ষক প্রশান্ত কুমার রায় বলেন, ৫২ এর ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতার সূত্রাপাত হয়। স্বাধীনতার পূর্বে পূর্বপাকিস্তান সামাজিক, রাজনৈতিক অর্থনৈতিকসহ নানা ক্ষেত্রে বঞ্চিত ছিল। এ বঞ্চনা থেকে মুক্তিপেতে এদেশের সূর্যসন্তানরা ঝাপিয়ে পড়ে। তবে দুঃখজনক হল, স্বাধীনতার পাঁচ দশক পরেও স্বাধীনতার শোষক ও ঘোষক নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে। প্রথম আলোকে সাধুবাদ জানাই এধরণের আয়োজনের জন্য।
খুলনা বন্ধুসভার সভপতি স্বর্ণকমল রায় বলেন, আমরা বইতে পড়িছি মুক্তিযোদ্ধাদের কথা, কিন্তু তাদের সাথে আমাদের খুব কমই দেখা হয়েছে। আজ সেই মুক্তিযোদ্ধার স্নেহের পদতলে বসে কথা বলতে পারছি। এটি অনেক বড় ভাগ্যের ব্যাপার। আমরা ছিলাম একটি রাষ্টের কাছে খেলার পুতুল, আমরা মাথা উচু করে কথা বলতে পারতাম না। শতবাধা পেরিয়ে বাংলা মায়ের দামাল ছেলেরা ছিনিয়ে এনেছ লাল-সবুজের পতাকা।
আলোচনা শেষে মূল্যায়নের ভিত্তিতে পাঁচজনকে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। প্রধান অতিথি এবং অত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষককে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। বিজয়ীরা হলেন; প্রথম – পঞ্চমের অধিকারী যথাক্রমে ৯ম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারজান, ৮ম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুদীপ্ত সানা, ৭ম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারোয়া রহমান, ১০ম শ্রেণির আব্দুর রহমান ও অষ্টম শ্রেণির আতিফা রহমান।
এসময় উপস্থিত ছিলেন খুলনা বন্ধসভার সাধারণ সম্পাদক ফারজানা যুথি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রহমাতুল্লাহ, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত গাইন, ক্রীড়া সম্পাদক দ্বীপ মণ্ডল, পরিবেশ সম্পাদক শ্রাবন্তী কুন্ডু, বন্ধু আবু হানিফা, জান্নাতারা জান্নাতসহ আরও অনেকে।
ঊআ-রহ
