ঊষার আলো প্রতিবেদক : গত পনের দিন আগেও নগরী জুড়ে তরমুজের যে রমরমা ব্যবসা ছিল, সম্প্রতি সময়ে তা যেন তরমুজ ব্যবসায়ীদের নিকট হারানো অতীত। হাঁক ডাক দিয়েও ক্রেতা মিলছেনা তরমুজের। যে কারণে মৌসুমের শেষে এসে তরমুজের ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে। গরমের একটি জনপ্রিয় রসালো ফল হলো তরমুজ। গ্রীষ্ম তাপদাহ্ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে তরমুজের চাহিদা বেশ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা অধিক মুনাফা লাভের আশায় ক্রেতাদের নিকট অনেকটাই ডাকাতির মতো ব্যবসা করেছে বলে একাধিক ক্রেতার অভিযোগ। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল তথা চরাঞ্চল ভোলা, রাঙ্গাবালী, আমতলী, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী), মোংলা, শান্তাহারসহ দেশের উত্তর অঞ্চল তথা নওগাঁ, নাটোর হতে বাজারে আসা তরমুজের মৌসুম প্রায় শেষের পথে। খুলনার কদমতলা (পুরাতন রেলস্টেশন) এর বিভিন্ন আড়ৎতেও পাইকারী দরে সেই প্রথম মৌসুমের কেনাবেচা আর নেই। কারণ জ্যৈষ্ঠ মাস চলছে। বাজারে এখন জ্যৈষ্ঠ মাসের নানা দেশী ফলের আমদানী। বাজারে আম, জাম, কাঠাল, লিটু, জামরুল, সফেদা, আপেল, আঙ্গুর, বেদানা, মালটা, খেজুর, পেয়ারা, আম, আনারস, কলাসহ হরেক ফল। তাই বর্তমানে ব্যবসায়ীরা জৈষ্ঠ্যের ফল কেনাবেচা প্রতি বেশি আগ্রহী। বিশেষ করে আম আর লিচু নিয়ে। মৌসুমের প্রথমে বাজারে আসা তরমুজ ৪০/৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হলেও বর্তমানে ২০/২৫ টাকা কেজি দরে হাঁক ডাকে বিক্রি হচ্ছে তবে মিলছেনা কাংক্ষিত ক্রেতা। আর ভ্রাম্যমান ভ্যানে বিক্রি হচ্ছে ১০/১৫ টাকা দরে ছোট তরমুজ।
তরমুজ ব্যবসায়ী হেলাল জানান, তরমুজ-বাঙ্গির মৌসুম প্রায় শেষের দিকে। যে কারণে দাম একটু বেশি। তবে সেই প্রথমের মতো আর কাস্টমার নেই। এখন ২০/২৫ টাকা দরে কেজি বিক্রি করছি। ডাকবাংলা ফল বাজারে আসা ক্রেতা সাথী জানান, মৌসুমের শুরুতে ব্যবসায়ীরা তরমুজে বেচার নামে ডাকাতি করেছে। প্রতি পিচ কিনে এনে কেজি দরে বেচেছে। বর্তমানে বাজারে তরমুজ থাকলেও ক্রেতা নেই। বাজার মনিটরিং না করার দরুন কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা করোনা আর মাহে রমজানকে ঘিরে তাদের ইচ্ছা-স্বাধীন, খেয়াল খুশিমত ক্রেতাদের চোখে ধূলে দিয়ে রমরমা ব্যবসা চালিয়ে গিয়েছে। তবে মৌসুম শেষে এখন ব্যবসায় ধ্বস নেমেছে।
(ঊষারা আলো-এমএনএস)
