খুলনা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও খুলনা মহানগরী আমীর অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যাতে জনগণ নির্বিঘ্নে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে জন্য সরকারকে অবশ্যই সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। মানুষের মধ্যে যেন কোনো আতঙ্ক বা শঙ্কা না থাকে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী খুলনা-৩ আসনের আড়ংঘাটা থানাধীন ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সকল রাজনৈতিক দলের জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আরও বেশি দায়িত্বশীল ও উদার ভূমিকা পালন করতে হবে। নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় যেন কোনো দল বৈষম্যের শিকার না হয়, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি তিনি উদাত্ত আহ্বান জানান।
খুলনা-৩ আসনের এমপি প্রার্থী অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান আরও বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের কড়ালগ্রাসে বন্দী ছিল। দেশে গণতন্ত্র বলতে কিছুই ছিল না, মানুষের মত প্রকাশের অধিকার হরণ করা হয়েছিল। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে গুম, খুনের মহোৎসব চলেছে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে দেওয়া হয় এবং ব্যাংক ব্যবস্থা ধ্বংসের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে ফেলা হয়েছিল।
তিনি বলেন, এই দুঃশাসন থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে জাতি মুক্তি পেয়েছে। শহীদদের এই আত্মত্যাগ কোনোভাবেই ভুলে গেলে চলবে না। তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মান জানাতে হবে। নতুন বাংলাদেশে যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান না ঘটে, সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকার ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়ে জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করেছিল। অথচ আজ জনগণই সেই স্বৈরাচারকে নিষিদ্ধ করেছে। জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবির জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এদেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গণসংযোগকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুর রাজ্জাক, সাইদ মল্লিক, মো. মাহাবুর রহমান, ইসমাইল হোসেন, মো. হাসান, মো. মনজু, মো. রানা মোল্লা, মো. মফিজুর রহমান, ফেরদাউস হোসেন, তরিকুল ইসলাম, হাসিবুর রহমান, আফজাল হোসেন, সাইফুল ইসলাম, ধুলু কাজী, কুদ্দুস হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মো. আব্দুল্লাহ, নাফিস হোসেন, মাসুম বিল্লাহ, আব্দুল হক, তাসাইফ, কাদের হোসেন, জামির হোসেন, মুন্তাজুল, সিয়াম, শামিম হোসেন, রাইহানুল ইসলামসহ স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ঊআ-মোহন চৌধুরী
