অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, একুশে ফেব্রুয়ারি বাঙালির জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় এবং অনন্য গৌরবের দিন। একুশ আমাদের অহংকার, একুশ আমাদের চেতনা। ভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করার অনন্য ইতিহাস কেবল বাঙালি জাতিরই রয়েছে।
শনিবার যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত প্রবন্ধ উপস্থাপন, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৬৯-এর গণআন্দোলন এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে। শহিদ মিনার আমাদের আন্দোলনের প্রেরণার উৎস এবং সংগ্রামের প্রতীক। তিনি আরও বলেন, মাতৃভাষার প্রতি বাঙালি জাতির ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে, যা আজ বিশ্বজুড়ে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলা, ইংরেজি ও আরবির পাশাপাশি আরও একটি বিদেশি ভাষা শিক্ষা চালুর পরিকল্পনা করছে। সম্ভাব্য ভাষাগুলোর মধ্যে আরবি, চীনা, কোরিয়ান ও জাপানি ভাষা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে, যা শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
মোহাম্মদ আশেক হাসান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যশোর সরকারি মহিলা কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. মোফাজ্জেল হোসেন। এছাড়া বক্তব্য দেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু এবং যশোর প্রেসক্লাব-এর সভাপতি মো. জাহিদ হাসান টুকু।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। পরে তিনি জেলার সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এর আগে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে ১৫ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তির মধ্যে হুইলচেয়ার, শুকনো খাদ্য সামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন। সন্ধ্যায় তিনি হোটেল ওরিয়ন-এ গণমাধ্যমকর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সম্মানে আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দেন।
ঊআ-রহমাতুল্লাহ
