জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, নগর জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং দুর্যোগ ঝুঁকি কমিয়ে পরিচ্ছন্ন ও জলবায়ু-সহনশীল নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে খুলনা নগরীর ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডে ৯ হাজার ২৩২ ফুট ড্রেন পরিচ্ছন্ন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।
রোববার সকালে নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাঠপট্টি এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসির তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘ক্লাইমেট-রিজিলিয়েন্ট কীন সিটিজ (থ্রিসি)’ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা এবং পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি ড্রেনে বর্জ্য না ফেলার জন্য নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ‘থ্রিসি’ প্রকল্প নগর পর্যায়ে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং কমিউনিটির অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে কাজ করছে।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ। এছাড়া প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা প্রকৌশলী মো. আনিসুর রহমান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. অহিদুজ্জামান খান, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি-খুলনা সিটি ইউনিটের ডিএডি রেক্সোনা খাতুন, সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল মজিদ এবং ফিল্ড অফিসার মো. সাইফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। সময়মতো ড্রেন পরিষ্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা গেলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন সম্ভব হবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়াসহ পানিবাহিত রোগের বিস্তার হ্রাস পাবে। একই সঙ্গে নগর অবকাঠামোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশবান্ধব ও জলবায়ু-সহনশীল নগর ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, ২১ ও ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ড্রেন পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বর্ষাকালে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
