ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুব কর্তৃক শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরা এক নারী শিক্ষার্থীকে ‘মৌলবাদী’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আতিয়ার রহমান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন বলেন, এটি শুধু একজন শিক্ষার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে অপমান করার ঘটনা নয় বরং এটি শিক্ষার্থীর ধর্মীয় বিশ্বাস, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও মানবিক মর্যাদার প্রতি অবমাননাকর আচরণ; যা অন্তর্ভুক্তিমূলক উচ্চশিক্ষার পরিবেশের পরিপন্থি।
তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ এমন একটি পরিসর; যেখানে মত, বিশ্বাস, চিন্তা, সংস্কৃতি ও জীবনাচরণের বৈচিত্র্যকে সম্মান করার মধ্য দিয়ে মুক্ত ও দায়িত্বশীল জ্ঞানচর্চার পরিবেশ গড়ে ওঠে।
তারা আরও বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পোশাক কোনোভাবেই তাকে ‘সন্ত্রাসী’, ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ কিংবা অন্য কোনো অবমাননাকর অভিধায় চিহ্নিত করার ভিত্তি হতে পারে না। কোনো শিক্ষার্থীর ধর্মীয় অনুশীলন বা ব্যক্তিগত পছন্দকে কেন্দ্র করে তাকে হেয় করা, ভয় দেখানো কিংবা নেতিবাচকভাবে ফ্রেমিং করা শিক্ষকের পেশাগত দায়িত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কোনো শিক্ষার্থীর পোশাক দেখে তার মেধা, চরিত্র, মনোভাব বা যোগ্যতা সম্পর্কে পূর্বধারণা তৈরি করা একাডেমিক ন্যায়বোধের পরিপন্থি। একজন শিক্ষক ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞানচর্চা, সহনশীলতা, যুক্তিবোধ ও পারস্পরিক সম্মানের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাবেন। শ্রেণিকক্ষ হবে সুচিন্তা ও মানবিকতার স্থান; অপমান, ভয়ভীতি বা মতাদর্শিক আধিপত্যের নয়।
ইউটিএল নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি বিদ্বেষমূলক আচরণের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, অভিযোগটির বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও যথাযথ তদন্ত করা দরকার। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রচলিত বিধি ও নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপযুক্ত প্রশাসনিক ও একাডেমিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ঊষার আলো-এসএ
