UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে খুলনাকে সমৃদ্ধ নগরী করতে চাই: কেসিসি প্রশাসক

Mohon Chowdhury
অক্টোবর ১৪, ২০২৬ ৭:৩২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেছেন, খুলনা একসময় বন্দর ও শিল্পনগরী হিসেবে দেশজুড়ে সমাদৃত ছিল। এ শহরে এসে মানুষ স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। কিন্তু কর্মসংস্থানের সংকট, মাদক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন নগরীর সম্ভাবনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা সেই হারানো খুলনাকে ফিরিয়ে আনতে চাই।

বুধবার দুপুরে নগরীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘খুলনা নগর অঞ্চলের জন্য শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন কৌশল ২০৫০’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জার্মান সরকারের আর্থিক সহায়তায় কেসিসির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপটেড আরবান ডেভেলপমেন্ট (সিসিএইউডি) প্রোগ্রাম (ফেজ-২)’ প্রকল্পের আওতায় কনসালটেন্সি সংস্থা অ্যাকম্পানিয়িং মেজর কনসালট্যান্ট (এএমসি) এ বৈঠকের আয়োজন করে। এতে বিভিন্ন বিষয়ের বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

বৈঠক আয়োজনের জন্য আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে কেসিসি প্রশাসক বলেন, খুলনার উন্নয়নে আমরা নতুন যাত্রা শুরু করেছি। এ যাত্রার শুরুতে করণীয় নির্ধারণে আজকের আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। খুলনার অনগ্রসরতার অন্যতম কারণ হলো, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখানকার নেতৃত্বের কার্যকর উপস্থিতি না থাকা। এ কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন। খুলনার উন্নয়নসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

বৈঠকে ২০৩৪ সালের মধ্যে খুলনা নগর অঞ্চলের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে কেসিসির বাস্তবমুখী কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি কেসিসি, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ), সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা, শিল্প ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য কার্যকর সমন্বয়ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আগামী দুই বছরের মধ্যে কেসিসি কী ধরনের বাস্তব উদ্যোগ নিতে পারে, সেগুলো বাস্তবায়নে কী সিদ্ধান্ত, অংশীদারত্ব ও সম্পদ প্রয়োজন এবং কেন্দ্রীয় সরকার ও কেসিসির কী ভূমিকা থাকা উচিত—এসব বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।

বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমান ও ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে প্রণীত এ কৌশল ২০৫০ সাল পর্যন্ত খুলনার উন্নয়নের দিকনির্দেশনা দেবে। এতে অগ্রাধিকারভিত্তিক কাজ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব, বাস্তবায়নের সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ ও সম্ভাব্য উৎস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা থাকবে।

গোলটেবিল বৈঠকে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, চিফ প্ল্যানিং অফিসার আবির উল জব্বার, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রফেসর ড. নিশাদ নাসরিন, আমাম সি ফুডস লিমিটেডের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর, সারতাজ ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বদরুল আলম মার্কিন, খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন গ্রুপের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ জাহিদ হোসেন, পাগমার্ক ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের স্বত্বাধিকারী নজরুল ইসলাম বাচ্চু, বাস্তুকল্প আর্কিটেক্টস লিমিটেডের প্রধান এস এম নাজিমুদ্দিন পায়েল, সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক প্রফেসর আনোয়ারুল কাদির এবং সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) খুলনার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদাসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা মতামত তুলে ধরেন।

ঊআ- মোচৌ