গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি দিতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) জীব বিজ্ঞান স্কুলের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো ‘গবেষণা উৎকর্ষ অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাত শিক্ষকের হাতে সম্মাননা স্মারক ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জীব বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. গোলাম হোসেন।
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন—এগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. ইয়ামিন কবীর, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মুরছালিন বিল্লাহ, এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক সাধন চন্দ্র স্বর্ণকার, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন রিসোর্স টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. অলোকেশ কুমার ঘোষ, ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. ইফতেখার শামস, ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক মো. মনিরুল ইসলাম এবং সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট সায়েন্স ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ড. মিল্টন হালদার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, দেশের জনগণকে দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তর এবং উদ্ভাবন ও গবেষণাকে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ও প্রভাববিস্তারকারী গবেষণার মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চায়। এ লক্ষ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি গবেষণা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব মৌলিক গবেষণা পরিচালনা করা। গবেষণায় উৎকর্ষ সাধনে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এগিয়ে যাচ্ছে। বড় পরিসরে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি হিটের আটটি প্রকল্প পেয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য জীব বিজ্ঞান স্কুলের ডিনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, প্রতিটি গবেষণাই মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। গবেষণার ক্ষেত্রে নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হয়। এ ধরনের অ্যাওয়ার্ড গবেষকদের কাজের স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের আরও উৎসাহিত করবে।
ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, যেকোনো স্বীকৃতি আনন্দ ও অনুপ্রেরণার। জীব বিজ্ঞান স্কুলের এ উদ্যোগ প্রশংসনীয়। গবেষণার মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টি ও উদ্ভাবনের পথ উন্মোচিত হয়। এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মো. নবীউল ইসলাম খান। অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা তাঁদের গবেষণা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত উপস্থাপনা তুলে ধরেন।
একই অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ে ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ পাওয়ায় বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. মুরছালিন বিল্লাহ এবং অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. নাসিফ আহসানকে জীব বিজ্ঞান স্কুলের পক্ষ থেকে সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সয়েল, ওয়াটার অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিনের সহকারী অধ্যাপক শারমিন সুলতানা এবং ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রভাষক নওরিন আহসান হাবিব। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, জীব বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত ডিসিপ্লিনের প্রধান, বিভিন্ন বিভাগের পরিচালক ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
ঊআ- মোচৌ
