বাগেরহাট প্রতিনিধি : বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলায় ইউসুফ সেখ (৭২) নামের এক বৃদ্ধকে গলা কেটে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। একই রাতে চিতলমারী উপজেলায় প্রতিপক্ষের হামলায় হিন্দু পরিবারের এক নারীসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়েছে। মোল্লাহাট উপজেলার হাড়িদাহ গ্রামে শুক্রবার ভোররাতে বৃদ্ধকে গলাকেটে হত্যা করা হয়। নিহত ইউসুফ শেখ (৭৫) হাড়িদাহ গ্রামের মৃত রঙ্গু শেখের ছেলে। নিহতের পরিবার জানায়, হাড়িদাহ গ্রামে রশিদ গ্রুপ ও আবেদ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পুর্ব বিরোধ চলে আসছে। ওই বিরোধের জের ধরে গত (১৯ এপ্রিল) দু’গ্রুপের মধ্যে প্রকাশ্য বিরোধ হয় এবং ২০টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যলয় উভয় গ্রুপকে ডেকে গত ২৫ এপ্রিল মিট মিমাংসা করা হয়। ওই মিট মিমাংসার ১৯ দিন পর আবারো উত্তেজনা দেখা দেয়। তার জের ধরে রশিদ গ্রুপের লোকজন ঈদের রাতে আকস্মিক হামলা চালিয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় ইউসুফ শেখকে গলা কেটে হত্যা করে। এ খবরে মোল্লাহাট থানা পুলিশ ঘটনা স্থলে পৌছে নিহত ইউসুফ শেখের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জনকে সন্দেহজনকভাবে আটক করেছে পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ফকিরহাট মোল্লাহাট সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ছয়রুদ্দিন ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন। মোল্লাহাট থানার ওসি ওসি কাজী গোলাম কবীর জানান, দু’পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হত্যা কান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েত করা হয়। আর বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। এ ঘটনায় তাৎক্ষনিক অভিযান চালিয়ে ৯ জন কে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে নিহতের ছেলে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করলে এজাহার নামীয় ৩ জন কে রেখে বাকীদের মুচলেকায় মুক্তি দেয়া হয়।অপর দিকে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে চিতলমারি উপজেলার হিজলা কুড়ালতলা গ্রামে সন্ত্রাসী হামলায় একটি হিন্দুর পরিবারের নারীসহ ৪ জন আহত হয়েছেন। আহতরা হলো ইউপি মেম্বর প্রার্থী কালা বিশ্বাস, তার পিতা রনজিৎ বিশ্বাস, সুইটি রানী ও প্রভাষ মন্ডল। আহতদের চিতলমারি হাসপাতালে ভর্ত্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
(ঊষার আলো-আরএম)
