UsharAlo logo
, |

মোংলা বন্দরের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

ঊষার আলো ডেস্ক
ডিসেম্বর ১, ২০২৫ ৬:২৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উদ্বোধন, ডকুমেন্টারি প্রদর্শন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মাননা প্রদান, বিদায়ী কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা ও শুভেচ্ছা উপহারসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মোংলা বন্দরের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (প্লাটিনাম জয়ন্তী) উদযাপন করা হয়েছে। সকালে বন্দরের স্টাফিং-আনস্টাফিং শেডে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল শাহীন রহমান।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, মোংলা বন্দর একটি সেবা ও উন্নয়নমূলক প্রতিষ্ঠান। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ বন্দর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। বঙ্গোপসাগর থেকে জেটি পর্যন্ত ১৩১ কিলোমিটার নৌপথের নাব্যতা ধরে রাখা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আজ মোংলা বন্দর একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাণকেন্দ্র এ বন্দরের মাধ্যমে মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি ঐতিহ্য ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বন্দর ব্যবহারকারী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমোডর মোঃ শফিকুল ইসলাম সরকার, সদস্য (অর্থ) কাজী আবেদ হোসেন, সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) ড. এ. কে. এম আনিসুর রহমান, পরিচালক (বোর্ড) কালাচাঁদ সিংহ, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে সব সূচকেই লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে মোংলা বন্দর। কার্গো হ্যান্ডলিংয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৮ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন, অর্জিত হয়েছে ১ কোটি চার লাখ ১২ হাজার মেট্রিক টন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭.২৫ শতাংশ বেশি। কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০ হাজার টিইইউজ, অর্জিত হয়েছে ২১ হাজার ৪৫৬ টিইইউজ। রাজস্ব আয় লক্ষ্য ছিল ৩৩৩ কোটি ৮৭ লাখ টাকা, অর্জিত হয়েছে ৩৪৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা। নীট মুনাফা লক্ষ্য ছিল ২০ কোটি ৪৬ লাখ ২০ হাজার টাকা, অর্জিত হয়েছে ৬২ কোটি ১০ লাখ টাকা—যা ২০৩.৪৯ শতাংশ বেশি।

বর্তমান অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বন্দরে এসেছে ৩৫৬টি জাহাজ, হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ হাজার ৮৫৪ টিইইউজ কন্টেইনার, গাড়ি আমদানি হয়েছে চার হাজার ১৩৯টি এবং পণ্য আদান-প্রদান হয়েছে ৪৪ লাখ টন। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের ফলে প্রথমবারের মতো প্রতি ঘন্টায় ২৪টিরও বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সম্ভব হচ্ছে এবং ৫টি জেটিতে একইসঙ্গে ৫টি জাহাজ পরিচালনা করা যাচ্ছে।

পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ‘চজঋ (Oil Spill Response)’ প্রকল্প সম্পন্ন হয়েছে, যা উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্ঘটনাবশত তেল নিঃসরণ হলে তা দ্রুত অপসারণের সক্ষমতা অর্জন করবে মোংলা বন্দর।

এদিন বন্দর ব্যবহারকারীদের মধ্যে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ২৯টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। কৃতিত্বপূর্ণ কাজের জন্য ১৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী, ঝুঁকিপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ৮ জনকে, এবং পিআরএল ভোগরত ৫৬ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সংবর্ধনা ও ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

বক্তারা বলেন, মোংলা বন্দর এখন জাতীয় অর্থনীতির একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার। উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার এই ধারাকে অব্যাহত রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

ঊআ-মোহন চৌধুরী