ঊষার আলো ডেস্ক : খুলনা বিভাগীয় যুব বিক্ষোভ সমাবেশে যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাইফুল আলম নিরব বলেছেন, অর্থের অভাবে চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে না পারায় মা তার নবজাতক সন্তানকে বিক্রি করে দিচ্ছে। বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারের পরিবারের প্রধান কর্তা ব্যয়ভার বহন করতে না পেরে পরিবার প্রধান আত্মহত্যা করছে। টিসিবি’র পন্য কেনার জন্য নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা লম্বা লাইনে দাড়িয়ে ব্যর্থ হচ্ছেন। ‘৭৩ সালে যেমনিভাবে শেখ মুজিবের লঙ্গড়খানায় লাইন দিয়ে খাদ্য গ্রহন করেছিলেন, ঠিক তেমিন অবস্থায় আজ প্রিয় বাংলাদেশ। মানুষের মৌলিক অধিকার খাদ্য কেনারও অর্থ নেই, অথচ সরকারি দলের নেতাকর্মীরা লুটপাটে অবৈধ অর্থের পাহাড় গড়ে তুলেছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। এভাবে চলতে দেয়া যায় না। যেভাবে ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষনা দিয়ে রণাঙ্গণে যুদ্ধ করে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছিলেন। ঠিক তেমনিভাবে যুবদল-ছাত্রদল ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্বার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামীলীগের কবল থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে হবে। সরকার প্রধানকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে যুবদল নেতা সাইফুল আলম নিরব বলেছেন, পুলিশ ছাড়া আওয়ামী লীগ রাজপথে নামলে একঘন্টাও দাড়াতে পারবে না।
নগরীর কে.ডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেছেন। তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিএনপি’র কেন্দ্র ঘোষিত সিরিজ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার (১০ মার্চ) বিকেলে খুলনা মহানগর ও জেলা যুবদলের আয়োজনে বিভাগীয় সদরে এ বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। নগর যুবদলের সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারুর সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর ও জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবাদুল হক রুবায়েত।
যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নিরব বলেন, আওয়ামী সরকারের নেতাকর্মীরা হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বিদেশে পাচার করছে। এই সরকারের মন্ত্রী, এমপিরা বিদেশ গাড়ী-বাড়ী করছে। দুর্নীতি করে ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকা চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। শেয়ার মার্কেট থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করেছে।
সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা করেন যুবদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শহিদুল্লাহ্ তালুকদার। বিশেষ বক্তা ছিলেন জেলা যুবদলের সভাপতি এসএম শামীম কবির। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা বিএনপি’র আহবায়ক আমীর এজাজ খান, নগর ও জেলা শাখার সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন ও এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহবায়ক শেখ আবু হোসেন বাবু, যুবদলের বিভাগীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান লিটন, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী শফিকুল ইসলাম হোসেন।আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন যশোর জেলা যুবদলের সভাপতি এম তমাল আহমেদ, মাগুরা জেলা যুবদলের সভাপতি এ্যাড. ওয়াছিকুর রহমান কল্লোল, বাগেরহাট জেলা যুবদলের সভাপতি হারুনার রশিদ হারুন, সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সভাপতি আবু জাহিদ ডাবলু, নড়াইল জেলা যুবদলের সভাপতি মশিউর রহমান ও কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের সভাপতি আল আমিন হোসেন কানাই, যশোরের সাধারণ সম্পাদক আনসারুল ইসলাম রানা, নড়াইলের সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান রুবেল, বাগেরহাটের সাধারণ সম্পাদক সুজাউদৌল্লাহ্ সুজন মোল্লা, কুষ্টিয়ার সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামাল উদ্দিনসহ বিভাগের সকল জেলার সাধারণ সম্পাদকসহ নেতৃবৃন্দ বিভাগীয় যুবসমাবেশে অংশগ্রহন করেন।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন, নগর বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক কাজী মাহমুদ, জিএম কামরুজ্জামান টুকু, এ্যাড. তসলিমা খাতুন ছন্দা, এহতেশামুল হক শাওন, মিজানুর রহমান মিল্টন, তারিকুল ইসলাম তারেক, মোল্যা ফরিদ হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ তৈয়েবুর রহমান, নগর শাখার সভাপতি একরামুল হক হেলাল, মোল্লা মোশাররফ হোসেন মফিজ, আতাউর রহমান রুনু, নেহিমুল ইসলাম নেহিম, আব্দুল মান্নান মিস্ত্রি, ইসতিয়াক আহমেদ ইস্তি, মোঃ তাজিম বিশ্বাস ও গোলাম মোস্তফা তুহিন প্রমুখ।
