UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রতারক চক্রের খপ্পরে নানা বয়সী মানুষ 

koushikkln
মার্চ ১৭, ২০২২ ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নানা ফাঁদে ফেলে অর্থ আত্মসাৎ 

মোঃ আশিকুর রহমান : আধুনিক যুগের আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সর্বক্ষেত্রে। তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে করেছে অতি সহজলভ্য আর আরামদায়ক। জীবনে এনেছে আমুল পরিবর্তন। কিন্তু বর্তমান সময়ে বিজ্ঞানের ছোয়া আর বিভিন্ন মোবাইল-ব্যাংকিংয়ে সংযুক্ত হয়েছে লেনদেনের সহজলভ্য উপায়। যার মধ্যে রয়েছে বিকাশ, রকেট, নগদ, ইউক্যাশ, এমক্যাশ সহ অন্যান্য যুগোপযোগী মাধ্যম। তবে এই সকল কোম্পানী ও ব্যাংক গুলো তাদের গ্রাহক সেবা প্রদানের জন্য লেনদেনের এই সকল সহজলভ্যতা সৃষ্টির দারুন উপকৃত হচ্ছে সেবাভোগীরা। তবে এই সেবার বিপরীতে নানা কৌশলে প্রতারনা ফাদে পড়ছে সেবাভোগীগণ। কোম্পানী বা ব্যাংক সমূহ বিভিন্ন সময়ে এসএমএস, ভয়েজ কল দিয়ে গ্রাহককে প্রতারণা সর্ম্পকে বার বার সর্তক করছে সেবা ভোগীদের। তথাপী কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য এসকল হাইভেল্টেজ প্রতারক চক্রের নানা প্রলোভনে পড়ে আর নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন, মনভোলা কথায় গ্রাহক পা ফেলছে প্রতারণার ফাঁদে।

প্রতারক চক্র কখনো গ্রাহক সেবা প্রতিনিধি, কখনো কাস্টমার ম্যানেজার, কখনো আপনার একাউন্ট বন্ধ হয়ে যাবে, কখনো একাউন্ট আপডেট করতে হবে, কখনো একাউন্ট লক করা হয়েছে, কখনো ছেলে-মেয়ের উপবৃত্তির টাকা পাওয়ার অজুহাত খাড়া করে পিন কোড আয়ত্ব করে হাতিয়ে নিচ্ছে গ্রাহকের একাউন্টের সকল অর্থ। তবে বর্তমান সময়ে প্রতারক চক্রটি পুরানো প্রতারনার রাস্তা ছেড়ে নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে নতুন করে প্রতারণা করতে শুরু করেছে।

সূত্রে জানা যায়, খুলনায় বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষকে ব্যবসার প্রলোভন, মাকেটিং প্রোডাক্ট, বিভিন্ন মসলা দ্রব্য ও ওষুধ, বিভিন্ন কোম্পানীর চাকুরী দেওয়াসহ বিভিন্ন আশা ভরসা দেখিয়ে ব্যবসায়ীসহ সাধারণ ভুক্তভোগী মানুষের নিকট হতে লক্ষ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে উধাও হয়ে যান প্রতারক মোঃ হামিদুল্লাহ (৫২) ও তার স্ত্রী স্ত্রী মোসাঃ নারগিছ বেগম (৪২)। তারা দীর্ঘদিন গোপন থানা পর দৌলতপুর থানা পুলিশ গেল ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে গাজিপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোণাবাড়ী থানা এলাকা হতে প্রতারক মোঃ হামিদুল্লাহ (৫২) কে ও অপর প্রতারক তার স্ত্রীকে গেল ৬ জানুয়ারি মহেশ^রপাশা পুলিশ ফাঁড়ি এলাকা হতে গ্রেফতার করে। প্রতারকদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মোঃ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করেন।

উল্লেখিত মামলার বাদী দেয়ানা পূর্বপাড়া বাসিন্দা মোঃ মনিরুল ইসলাম জানান, এখন হতে প্রায় দ্ইু বছর আগে ব্যবসার কথা বলে হাবিবুল্লাহ আমার নিকট হতে সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা গ্রহণ করে। এরপর হতে বহু খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান মেলাতে পারিনি। এই শোকে আমার স্ত্রী স্ট্রোকও করে।

দৌলতপুরস্থ কালীবাড়ীর বাসিন্দা রবিউল ইসলাম জানান, আমার নিকট হতে ৫০ হাজার টাকা গ্রহন মসলার ব্যবসার কথা বলে। এরপর আর খবর নাই। অনেক মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি করেও তাদের সন্ধ্যান মেলাতে পারি নাই।

মিজান নামের হোটেল কর্মচারী জানান, আমার স্ত্রী নিখোঁজ হয়। পুলিশ পরিচয় দিয়ে তার সন্ধান পাওয়ার গেছে বলে আমার নিকট হতে ৩৫০০ টাকা প্রতারণা করে বিকাশ করে নিয়ে যায়।
চা দোকানদার জাকির জানায়, যিনি বেশ কয়েকমাস আগে পুরাতন ফোন কেনার উদ্দেশ্য বিক্রয় ডট কম এর মাধ্যমে ফোন হাতে না পেয়েই টাকা বিকাশ করে দেন। পরে প্রতারকের নম্বর বন্ধ পেয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা জিডি দায়ের করেন। কিন্তু কোন নেতিবাচক পরিত্রান মেলেনি।

আশিক নামের চাকুরীজীবী জানান, হঠাৎ তার ফোনে ফোন আসে। পরিচয় দেন কাস্টমার কেয়ার ম্যানেজার বলছি। আপনার বিকাশ আইডি’র নম্বর বলেন। আপনার বিকাশ সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে। নতুন পিন দিতে হবে। এমনভাবে প্রতারিত করছে একের পর একজনকে। পরে তিনি নম্বরটি ব্লাক সিস্টে ফেলে রাখেন।
সম্প্রতি সময়ে খুলনার আরেক প্রতারক চক্র রিয়েল সমিতি। কয়েক শতাধীক অসহায়, নি¤œ আয়ের, অভাবি মানুষের কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে আজ উদাও! আজ এই সকল অসহায় মানুষগুলো সর্বশান্ত পাগল প্রায়।

নগরীতে এ রকম অনেক ঘটনাই ঘটে চলেছে সম্প্রতি সময় জুড়ে। প্রতারক চক্র নতুন নতুন কৌশল অবলম্বন করে সহজ-সরল গ্রাহককে নানা ফাদে ফেলে হাতিয়ে নিচ্ছে অর্থ। এ সকল প্রতারকদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তির বিধান আরোপ করলেও আইনের প্রতি আরো আস্থা পাবেন প্রতারকের খপ্পরে পড়া ভূক্তভোগীরা।