ঊষার আলো ডেস্ক : পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট পার্লামেন্ট পুনর্বহালের রায় দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (০৭ এপ্রিল) দেশটির প্রধান বিচারপতি উমর আতা বান্দিয়ালের নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দেন। একই সঙ্গে আদালত অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব খারিজ করে দেওয়া ডেপুটি স্পিকারের সিদ্ধান্ত অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন। আগামী শনিবার অনাস্থা ভোটের আয়োজন করারও নির্দেশ দেন আদালত। এই রায়ে দেশটির বিরোধী দলগুলোর জয় হলো।
আদালতের রায়ে বলা হয়, প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভীর জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত অবৈধ। প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান তাঁর পদে পুনর্বহাল হবেন ও তাঁর মন্ত্রী পরিষদও পুনর্বহাল হবে।
শনিবার জাতীয় পরিষদের অধিবেশন
ডাকতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান
রায় ঘোষণার পর জাতীয় পরিষদের প্রধান বিরোধী দল পিএমএলের (এন) নেতা শাহবাজ শরিফ বলেন, আদালতে রায়ে জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে। পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি আদলতের রায়কে বিরোধীদলগুলোর জয় বলে উল্লেখ করেছেন। এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র হলো সবচেয়ে বড় প্রতিশোধ। ’
এদিকে আদালতের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ইমরান খানের দল তেহরিক ই ইনসাফের (পিটিআই) নেতা ও তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী। তিনি এক টুইট বার্তায় বলেন, এই রায় দুর্ভাগ্যজনক। আদালতের এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত করবে।
শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় রায় ঘোষণা করার সময় ধার্য করেন আদালত। তবে প্রায় এক ঘণ্টা দেরিতে রায় ঘোষণা শুরু করেন প্রধান বিচারপতি বান্দিয়াল। তিনি বলেন, পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
আদালত আগামী শনিবার জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকতে প্রেসিডেন্টের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ওই দিন সকাল সাড়ে দশটায় প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীদের আনা অনাস্থা ভোট অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত বলেছেন, অনাস্থা ভোট না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত করা যাবে না।
এর আগে রবিবার প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বিরুদ্ধে বিরোধীদলগুলোর আনা অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব খারিজ করে দেন ডেপুটি স্পিকার। এরপর পরই প্রধানমন্ত্রী ইমরান প্রেসিডেন্ট আরিফ আলভিকে জাতীয় পরিষদ ভেঙে দেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে প্রেসিডেন্ট জাতীয় পরিষদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। এই সিদ্ধান্ত মানতে না পেরে আদালতে যায় বিরোধী দলগুলো। আদালতও স্বতঃপ্রণোদিত নোটিশের শুনানি শুরু করে। টানা পাঁচদিন শুনানি শেষে আদালত এই রায় দিলেন।
