বাগেরহাট প্রতিনিধি : ঘুর্নিঝড় ইয়াসের কারনে বেড়ে যাওয়া পানির চাপ এখনও কমেনি। বঙ্গোপসাগরের পানির তোড়ে বাগেরহাটের শরণখোলার উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের প্রায় দুইশতাধিক পরিবার এখনও পানিবন্ধি অবস্থায় দিন পার করছে। ওইসব পরিবার সমূহের রান্নাবান্না বন্ধ হওয়ায় তারা অন্যের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন। জলোচ্ছাসে ওই এলাকার রিংবাধ ভেঙ্গে যাওয়ায় এ দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে গ্রামবাসি জানায়। গ্রামের সুরক্ষায় রিংবাধ সংস্কারের দাবীতে গ্রামবাসী এক মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেছে। বণ্যা ও প্রবল জোয়ারের পানি থেকে গ্রাম রক্ষায় তাদের এ মানব বন্ধন বলে সমাবেশে বক্তারা উল্লেখ করেছেন। শুক্রবার বিকেলের দিকে শরণখোলা ডিগ্রী কলেজ মোড়ে অনুষ্ঠিত মানব বন্ধনে গ্রামের শতশত নারী পুরুষ অংশ গ্রহণ করেন। মানববন্ধন চলাকালে খোন্তাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির হোসেন খান মহিউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড বেড়ীবাঁধ নির্মাণের সময় রাজৈর গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার, রাজৈর আলিম মাদ্রাসা,কৃষি বিভাগের সীড ষ্টোর, কয়েকটি বরফ কল ও অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে বেরীবাঁধের বাইরে রেখে অপরিকল্পিত নকশায় বেড়িবাঁধ তৈরী করেছে। ফলে বাধেঁর বাইরে থাকা গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার জলোচ্ছাস ও প্রবল জোয়ারের পানিতে ভাসছে। সাউথখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মোজাম্মেল হোসেন জানান, ঘূর্ণীঝড় ইয়াসের জলোচ্ছাসে সাউথখালী ইউনিয়নের খুড়িয়াখালী গ্রামের রিংবাধ ভেঙ্গে খুড়িয়াখালী ও চালিতাবুনিয়া গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। দু’শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নদীর জোয়ারে এসব পরিবারের বাড়ীঘর ভেসে যায় আবার ভাটার টানে শুকিয়ে যায়। পরিবার সমূহ রান্নাবান্না করতে না পারায় আত্মীয়স্বজনের বাড়ীতে আশ্রয় নিয়েছেন বলে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার বাচ্চু মুন্সী জানান। খুড়িয়াখালী গ্রামের নুপুর বেগম ও চালিতাবুনিয়া গ্রামের আঃ খালেক তালুকদার বলেন, জোয়ারের পানিতে বাড়ীঘর ডুবে থাকায় গত তিন দিন যাবৎ তাদের বাড়ীতে রান্নাবানা হয়না । এ জন্য মানুষের বাড়িতে সাময়িক আশ্রয় নিয়েছেন বলে তারা জানান। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন জানান, খুড়িয়াখালী গ্রামের ভেঙ্গে যাওয় রিংবাধ দ্রুত মেরামতের জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
(ঊষার আলো-আরএম)
