UsharAlo logo
, |

উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামানকে বনজীবীদের সংবর্ধনা

ঊষার আলো ডেস্ক
আগস্ট ২৩, ২০২৫ ৭:৪৩ অপরাহ্ণ
Link Copied!

বনজীবী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এক সংর্বধনা অনুষ্ঠান ও বৃক্ষ বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সুশীলনের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী প্রধান মোস্তফা নুরুজ্জামানকে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, সুন্দরবন সুরক্ষা ও বনায়নে অনন্য অবদানের জন্য ‘উপকূলবন্ধু’  হিসেবে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

বৃহস্পতিবার ( ২১ আগস্ট) সকাল ১০টার দিকে শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ রনী খাতুন। অনুষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা নির্বাহী কমিটির সভাপতি মাহমুদা বেগম, বিশেষ অতিথি ছিলেন বনশ্রী শিক্ষা নিকেতনের প্রধান শিক্ষক মোঃ আব্দুল করিম, সুন্দরবন উপকূল সুরক্ষা আন্দোনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র এবং সুশীলনের উপ-নির্বাহী প্রধান মোঃ নাসিরুদ্দিন ফারুক।ন এছাড়াও গনমাধ্যম কর্মি, সুশীলনের গুরুত্বপূর্ন ব্যক্তিবর্গ, অত্র স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং প্রায় ৫শ জন বনজীবী সম্প্রদায়ের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত ও মুখরিত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিপলস ফোরাম সভাপতি এবং সমাপনী বক্তব্য রাখেন সিএমসি সভাপতি। বনজীবী সম্প্রদায় থেকে চারজন বক্তা তাদের বক্তব্যের মাধ্যমে উপকূলবাসীর প্রতি নিবিড় অবদান ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে মুন্ডা কমিউনিটির ঐতিহ্যবাহীবরণ অনুষ্ঠান এছাড়া সুশীলনের কালচারাল টিম পরিবেশ সুরক্ষা ও সামাজিক সচতেনতা বৃদ্ধিতে মনোজ্ঞ ছবি নাটক উপস্থাপন করেন। সমগ্র অনুষ্ঠানে সঞ্চালনার দায়ীত্ব পালন করেন সুশীলনের উপ-পরিচালক (প্রোগ্রাম) শাহিনা পারভিন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উপকূলবন্ধু তার প্রাতিষ্ঠানিক কর্মকান্ডের ১৯৯১ সাল থেকে বনজীবীসহ সুবিধা বঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাওয়ানো, শিক্ষা আইসিটি, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, নারীর বিকাশ ও ক্ষমতায়নসহ বহুমুখী উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। উপকূলীয় এলাকায় সুন্দরবন সংরক্ষণ, নতুন বনায়ন এবং বননর্ভির মানুষরে জীবনমান উন্নয়নে প্রতিষ্ঠানের ভূমিক প্রশংসনীয়।

অত্র স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, আইলা-পরর্বতী সুশীলনের কার্যক্রম কীভাবে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে সাহস ও আশার আলো জ্বালিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন সুশীলনের কার্যক্রম শুধু আঞ্চলিক উন্নয়নই নয়, বরং মানুষের মানসিকতা পরিবর্তনের একটি বড় ভূমিকা পালন করছে। সুশীলনের উপ- নির্বাহী প্রধান উপকূলবন্ধুর নেতৃত্বের কথা উল্লখে করে বলেন, সুশীলনের কাজ শুধু সুন্দরবন ও পরিবেশ রক্ষায় নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলায় সচেতনতা তৈরীতেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তাঁর অক্লান্ত প্রচষ্টোর স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২১ সালে উপকূলবাসী তাঁকে ‘উপকূলবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা রনী খাতুন বলেন, “উপকূল বন্ধুর নেতৃত্বে আমরা সম্মিলিত প্রতিশ্রুতি গ্রহণ করেছি, আমাদের মাটি, আমাদের পানি  আমাদের বনের জন্য। এই উদ্যোগ আমাদের দেখিয়েছে নারীর নেতৃত্ব, তরুনদের অংশগ্রহণ ও কমিউনিটির ঐক্য দিয়ে কীভাবে বড় পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব।

সংর্বধনা গ্রহণকালে উপকূলবন্ধু মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন, “উপকূলের মানুষ, বনজীবী ও পরিবেশের স্বার্থে কাজ করাই আমার জীবনের লক্ষ্য। সুন্দরবনকে রক্ষা করা মানে আমাদের ভবষ্যিৎকে রক্ষা করা।” তিনি আরও বলেন, বনজীবী সম্প্রদায়ের এই ভালোবাসা ও সম্মান তাঁর দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঊআ-বিএস