ঊষার আলো প্রতিবেদক : দলিত ও হরিজন জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন ও মানবতার ১০ দফা দাবিতে সোমবার (২১ মার্চ) বিকেলে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দলিত যুব ঐক্য পরিষদের জেলা সেক্রেটারি জয়ন্ত কুমার দাস। প্রধান অতিথি ছিলেন কেসিসির প্যানেল মেয়র আলী আকবর টিপু। সভাপতিত্ব করেন দলিতের নির্বাহী পরিচালক স্বপন কুমার দাস। উপস্থাপনা করেন দলিতের মনিটরিং অফিসার ইসরাত নুয়েরী হোসেন।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশে বসবাসরত প্রায় এক কোটি দলিত ও হরিজন জনগোষ্ঠীর মানুষ বাস করে। বাংলাদেশে এই বিংশ শতাব্দীতেও দলিত হরিজন সম্প্রদায় প্রতিনিয়ত অস্পৃশ্যতার শিকার হয়। দারিদ্র্য, প্রান্তিকতার মাত্রা, বৈষম্য, অস্পৃশ্যতা, ঘৃণা, সমাজ বি”িছন্নতা, মর্যাদাহীনতা, পেশাচ্যুতি ইত্যাদি নানাবিধ বঞ্চনার শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়।
ইতিহাস থেকে জানা যায় যে, জন্মগত ও পেশাগত পরিচয়ের কারনে বৈষম্যের শিকার জাতিগোষ্ঠী যথা ঋষি, কায়পুত্র, জলদাস, হরিজন, বেহারা, জেলে, দাই, ধোপা, নিকারী, শিকারী, হাজাম, কলু ইত্যাদি সম্প্রদায়ের মানুষেরা তথাকথিত সমাজ ব্যবস্থায় দলিত, নিম্মবর্ণ নামে পরিচিত। আমাদের স্বপ্ন ছিল সদ্য স্বাধীন দেশে আমরা সম্মানের সহিত সকল ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অসাম্য ও অবহেলা থেকে মুক্ত ভাবে জীবন যাপন করতে পারব। কিন্তু নির্মম হলেও সত্য এই নিম্ম বর্ণের মানুষেরা এখনও সমাজ কর্তৃক নিগৃহীত। এ দেশের নাগরিক হয়েও শুধু মাত্র নিম্মবর্ণে জন্মগ্রহণ করার কারণে অত্যান্ত মানবেতর জীবন যাপন করছি।
সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েই আমাদের জীবন যাপন করতে হয়। এই বিচ্ছিন্নতা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং মানসিক। এ সকল ভাগ্যহত নীপিড়িত মানুষের অধিকার সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের কতিপয় উদ্যোগ আমাদের বেঁচে থাকার স্বপ্নকে আরও উৎসাহিত করেছে। তথাপি দলিত হরিজন জনগোষ্ঠীর প্রতি এখনও যে সকল সামাজিক, অর্থনৈতিক বঞ্চনা সর্বপরি বৈষম্য বিদ্যমান তা টিকিয়ে রেখে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। আর এই অবস্থাকে কাটিয়ে উঠার জন্য রাষ্ট্রের নিকট ১০ দফা দাবি পেশ করা হলেঅ। দাবিগুলো হচ্ছে- দলিত ও হরিজন সমাজের মানবাধিকার সংরক্ষণে বাংলাদেশ সরকারকে বৈষম্য বিলোপ সংক্রন্ত আইন প্রণয়ন করতে হবে। জাতীয়, বিভাগীয় ও জেলা কমিটিতে দলিত সম্প্রদায়ের বৈচিত্রতা, সংখ্যা বিবেচনায় কমপক্ষে পাঁচ জন সদস্য তন্মধ্যে একজন নারী সদস্য নিশ্চিত করতে হবে। সরকারের নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং উন্নয়নের ধারায় দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করার জন্য একটি জাতীয় উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। দলিত ও হরিজন শিশুদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। চাকুরি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি ক্ষেত্রে সংবিধানের অনু”েছদ ২৯(৩) অনুযায়ী দলিতদের জন্য কোটা বরাদ্দ করতে হবে। সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় হরিজন সম্প্রদায়ের জন্য চাকুরি নীতিমালা যুগোপযোগী করতে হবে। সরকারের গৃহায়ন কর্মসূচী (যেমন গু”ছগ্রাম, আদর্শগ্রাম ও আশ্রায়ন)-এ দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়কে অš‘র্ভূক্ত করতে হবে। সরকারী সেফটি নেট কর্মসূচী (বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, ভিজিএফ কার্ড, দূর্যোগকালীন ত্রাণ ইত্যাদি) ও দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচি-তে প্রকৃত দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়কে অন্তর্ভূক্ত করতে হবে। আদমশুমারী বা জাতীয় জরিপে পৃথকভাবে দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়কে গণনা করতে হবে। জাতীয় সংসদসহ সকল স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে দলিত ও হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার জন্য আসন সংরক্ষনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
