UsharAlo logo
, |
আজকের সর্বশেষ সবখবর

অস্থির গরমেও খুলনায় টিসিবি’র পণ্য কিনতে উপচে পড়া ভিড়

koushikkln
এপ্রিল ৯, ২০২২ ১০:২৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ঊষার আলো প্রতিবেদক : বাণিজ্য মন্ত্রনালয়ের আওতাধীন ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র উদ্যোগে শনিবার খুলনা মহানগরীর কেসিসি’র ৫, ৬, ৭ ও ৮ নং ওয়ার্ডে ফ্যামিলি কার্ডে ট্রাকসেলের মাধ্যমে দ্বিতীয় দফায় টিসিবি’র পণ্য বিক্রয় করা হয়েছে। পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণানুসারে টিসিবি’র পণ্য কিনতে কার্ডধারী ক্রেতাদের সকাল হতে লম্বা লাইনে দাড়িয়ে থাকলেও দেখা মেলেনি।

ট্রাকসেলের ডিলার সূত্রে জানা যায়, পূর্ব হতে ডালের প্যাক প্রস্তুত না থাকার কারণে নতুন করে প্যাক করে আনার কারনেই মূলত বিলম্ব হচ্ছে। টিসিবি’র বিতরণকৃত দ্বিতীয় দফায় পণ্যে ক্রয় করতে রমজানের মধ্যে প্রখর রোদকে অতিক্রম করে পূর্ব নির্ধারিত ঘোষণানুসারে টিসিবি’র পণ্য কিনতে কার্ডধারী ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় পরিলক্ষিত হয়েছে। টিসিবি’র আঞ্চলিক অফিস সূত্রে জানা যায়, তালিকানুসারে প্রতিটি কার্ডে ৫৬০ টাকা প্যাকেজের পণ্য বিক্রয় করা হয়েছে। যার মধ্যে ৫৫ টাকা দরে ২ কেজি চিনি, ৬৫ টাকা দরে ২ কেজি মুশুরী ডাল, ১১০ টাকা দরে ২ লিটার সয়াবিন তেল ও ৫০ দরে ২ কেজি ছোলা।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, ৫নং ওয়ার্ড এলাকায় ৪টি ট্রাকসেলে মাধ্যমে দৌলতপুর আজ্ঞুমান ঈদগায়ে, দৌলতপুর বাস টার্মিনালে, বীণাপানি প্রাঃ বিদ্যালয়ে ও দৌলতপুর মুহসীন সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সর্বমোট ২ হাজার কার্ডে, ৬নং ওয়ার্ড এলাকার ৪টি ট্রাকসেলের মাধ্যমে শেরে বাংলা স্কুল মোল্লার মোড়, সবুজ সংঘ মাঠ পাবলা, পাবলা কবির বটতলা ও পাবলা কারিকর পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সর্বমোট ২ হাজার কার্ডে, ৭নং ওয়ার্ড এলাকায় ৪টি ট্রাকসেলের মাধ্যমে রাজধানী মোড়, কাশিপুর কাউন্সিলর কার্যালয়, ভাটিয়াপাড়া কাউন্সিলরের কার্যালয় ও পশ্চিম পাড়া রেজাউল ফকিরের বাড়ীতে সর্বমোট ২ হাজার কার্ডে ও ৮নং ওয়ার্ড এলাকায় ৪টি ট্রাকসেলের মাধ্যমে ওয়ার্ড কার্য্যালয় অফিস, ক্রিসেন্ট মিল গেট, খালিশপুর জুট মিল গেট ও খুলনা বিদ্যুৎ কেন্দ্র চত্ত্বরে সর্বমোট ২ হাজার কার্ডে টিসিবি’র পণ্য বিরতিহীন ভাবে বিক্রয় করা হয়েছে।

খোলা বাজারে নিত্যপণ্য বিশেষ করে তেল, চিনি, ডাল সহ অন্যান্য সামগ্রীম দাম আকাশ ছোয়া হওয়ার দরুন সাশ্রয়ী মূল্য টিসিবি’র মাধ্যমে বিক্রি করা পণ্যকিনতে সব বয়সী ও শ্রেনী পেশাজীবি মানুষের ছিল উপচে পড়া ভীড়। দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে সিরিয়ালের মাধ্যমে পণ্য ক্রয় করেন সল্প আয়ের মানুষ। তবে ট্রাকসেল বিলম্বের কারণে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতাগণের বলে জানিয়েছেন একাধীন ক্রেতাগণ।

মিজানুর রহমান স্বাধীন জানান, সেই সকালে মুহসীন মোড় তেতুল তলায় এসেছি। কার্ড নিয়ে দাড়িয়ে আছি, বাইরে প্রচুর গরম। তবে ট্রাকসেলের দেখা নেই। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারী বাজারে উচিত।
কবিরতলার বাসিন্দা নাদিরা জানান, বাইরে প্রচুর রৌদ্দুর, রোজা থেকে খুব কষ্ট হয়েছে লাইনে দাড়িয়ে মাল নিতে, তবুও বাজার দাম কম বিধায় দাড়িয়ে আছি। সেই সকালে এসেছি, ভেবেছি তাড়াতাড়ি চলে যাবো। আমার দুপুরে বাড়ীতে গিয়ে আবার ইফতার তৈরী করতে হবে।

টিসিবি’র আঞ্চলিক প্রধান মোঃ রবিউল মোর্শেদ জানান, গোডাউন হতে মাল লোড করে যেতে হয়তো একটু দেরি হতে পারে বিধায় নির্ধারিত স্থানে ট্রাকসেল পৌচ্ছাতে একটু বিলম্ব হতে পারে। বিলম্ব হলেও কার্ডধারীদের অবশ্যই পণ্য সরবরাহ করবে ডিলারগণ এমনই দিক নির্দেশনা রয়েছে জেলা প্রশাসনের।

নগর আ’লীগ নেতা ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মাকসুদ আলম খাজা জানান, সরকার প্রধান জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এই নব উদ্যোগ গ্রহণ করা জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। কারণ অনেক সাধারণ গরীব মানুষ রয়েছে যারা খোলা বাজার হতে নিত্যপন্য ক্রয় করার ক্ষমতা রাখেনা। পরিবার কেন্দ্রীক প্রদানকৃত টিসিবি’র পণ্য পাওয়াতে অসহায়, হতদরিদ্র ও সল্প আয়ের মানুষেরা চরম উপকৃত হবে।

]
খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, টিসিবি’র পণ্য বিপণন নিয়ন্ত্রণ করছে খুলনা সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় কাউন্সিলরবৃন্দ। ইতিমধ্যে টিসিবি’র ২য় ধাপে পণ্যে বিক্রয় করা হয়েছে। সরকার প্রদত্ত এই পরিবারের রেশন কার্ড অবশ্যই গরীব অসহায় ও সাধারণ নি¤œ আয়ের মানুষ স্বস্তি দিবে।