ঊষার আলো প্রতিবেদক : খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারী ইউনিট ০২ ( ১১ ও ১২ ওয়ার্ডে), রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনদের হাতে চিকিৎসক প্রহৃত ও হাসপাতাল ভাঙচুর মামলা আসামীদের গ্রেফতারে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন চিকিৎসক নেতারা। তাছাড়া ঘটনার প্রতিবাদে দু’ঘন্টার প্রতিকী কর্মবিরতি পালন করেছে ইন্টার্ণ চিকিৎসক পরিষদ।
গত ১০ এপ্রিল রাত ৩.৩০.মিনিটে উত্তেজিত হয়ে কর্তব্যরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের শারিরিক লাঞ্ছিত ও সরকারী সম্পত্তি ভাংচুর করার প্রতিবাদে এবং চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মস্থলের দাবিতে খুলনা বিএমএ এর নির্ধারিত বিক্ষোভ সমাবেশে এ কর্মসূচি দেওয়া হয়। নগরীর সাতরাস্তা মোড়স্থ শহীদ ডা. মিলন চত্ত্বরে ্নুএ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা বিএমএ এর সভাপতি ও সংগঠনের বিভাগীয় সহ-সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম এর সভাপতিত্বে প্রচার ও জন-সংযোগ সম্পাদক ডা. সুমন রায় এর সঞ্চলনায় নির্ধারিত আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক ডা. মোঃ মেহেদী নেওয়াজ, যুগ্ম সম্পাদক ডা. বঙ্গ কমল বসু, কার্যকরী পরিষদ সদস্য ডা. এ টি এম মঞ্জুর মোর্শেদ, ডা. দেবনাথ তালুকদার রনি, ডা. উৎপল কুমার চন্দ, খুলনা মেডিকেল কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. কুতুব উদ্দিন মল্লিক,খুলনা মেডিকেল কলেজ এর ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ এর সভাপতি ডা. সৈকত ঘোষ, সাধারণ সম্পাদক ডা. ইমরান সুজন, গাজী মেডিকেল কলেজ এর ইন্টার্ন চিকিৎসক পরিষদ এর সভাপতি ডা. তমজিৎ বিশ^াস প্রমূখ
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা ঘটনার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপণ করেন এবং সরাসরি হামলায় জড়িতদের গ্রেফতার, বিচার ও চিকিৎসকদের কর্মস্থল এর নিরাপত্তার দাবী উত্থাপন করেন। বক্তারা আগামী ৭২ ঘন্টার মধ্যে এই ঘটনায় জড়িতরা গ্রেফতার না হলে পুনরায় কঠোর কর্মসূচি প্রদান করার ঘোষনা দেন।
শনিবার (৯ এপ্রিল) নগরীর দৌলতপুরের পাবলা কারিকর পাড়ার মাওলানা আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী পিয়ারুন্নেছা (৫৫) মত্যুর ঘটনা ঘটে। মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক। আব্দুর রাজ্জাক মহানগরীর দৌলতপুরের পাবলার মধ্য কারিকারপাড়া পুরাতন জামে মসজিদ পেশ ইমাম। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২ টার সময় বুকে ও পেটে ব্যাথা নিয়ে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। তারপর চিকিৎসায় তার শারিরীক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়। পরিবারের সদস্যরা তার দেখাশুনার জন্য হাসপাতালেই অবস্থান করে। ১০ এপ্রিল রাত ১ টার পর থেকে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। তখন রোগীর সঙ্গে থাকা দুই ছেলে বার বার কর্তব্যরত ডাক্তারদের ডাকতে থাকে। দুইঘণ্টা অতিবাহিত হলেও কর্তব্যরত ডাক্তার রোগীর কাছে আসেনি। এদিকে রোগী যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। অবশেষে ডাক্তারদের অবহেলায় রাত পৌঁনে ৩টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
