শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে খুলনায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার। অনুষ্ঠানের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহিদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আ. স. ম. জামশেদ খোন্দকার বলেন, প্রতিবছর গভীর বেদনা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে আমরা এই দিনটি পালন করি। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয়ের প্রাক্কালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরিকল্পিতভাবে শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক, আইনজীবী, শিল্পী ও সাহিত্যিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মেধাবী মানুষকে হত্যা করে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার অপচেষ্টা চালায়। তাদের উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথচলাকে বাধাগ্রস্ত করা। মহান মুক্তিযুদ্ধে আমরা প্রায় এক হাজার একশো এগারো জন জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীকে হারিয়েছি। যুগে যুগে যারা এ দেশকে এগিয়ে নিতে চেয়েছেন, তাদের থামিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র অতীতের মতো বর্তমানেও অব্যাহত রয়েছে। তবে শহিদ বুদ্ধিজীবীদের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনার পুলিশ সুপার মো. মাহবুব রহমান। এছাড়া বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক মো. আরিফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিতান কুমার মন্ডল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা, খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. হ. ম. রুহুল আমীন এবং খুলনা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহবায়ক মো. আবু জাফর।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা শহিদ বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে তাঁদের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গঠনে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
ঊআ-মোহন চৌধুরী
