খুলনায় ‘জলবায়ু পরিবর্তন, নারীর জীবিকা ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক কর্মশালায় উপকূলীয় এলাকার জন্য পৃথক বাজেট বরাদ্দ এবং নারীবান্ধব আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নারী ও শিশুদের জীবনমান উন্নয়নের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার মানুষের সুপেয় পানির সংকট সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বাদাবন সংঘের আয়োজনে নগরীর খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বক্তারা বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান সমস্যা যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। এসব কারণে নানা রোগব্যাধি দেখা দিলেও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সমন্বিত পরিকল্পনা জরুরি বলে মত দেন বক্তারা।
কর্মশালায় সুন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আনারুল কাদিরের সভাপতিত্বে এবং অ্যাডভোকেট কুদরত ই-খুদার সঞ্চালনায় অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক আনজুম তাসনুভা। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন বাদাবনের নির্বাহী পরিচালক লিপি রহমান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফরিদা জেসমিন।
এতে আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম, নারীনেত্রী সুতপা দেবজ্ঞ, উপকূলীয় সংগঠনের প্রতিনিধি শিখা, সুফিয়া খাতুন, শেফালী বৈরাগী, কারিতাসের প্রভাস বিশ্বাস, সাংবাদিক এইচ এম আলাউদ্দীন, সবুর রানা, অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার, অ্যাডভোকেট পপি ব্যানার্জি, রেখা মারিয়াসহ অনেকে।
বক্তারা আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যে বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা জেলার মানুষের জীবনযাত্রায় গভীর প্রভাব ফেলছে। সুন্দরবনঘেঁষা এ অঞ্চলের মানুষের জীবন ও জীবিকা প্রকৃতিনির্ভর হওয়ায় লবণাক্ততা বৃদ্ধি, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ, চিংড়ি চাষের বিস্তার, ভূমি ব্যবহারের পরিবর্তন এবং শিল্পায়নের ফলে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
ঊআ-রহ
