খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও একুশে পদকপ্রাপ্ত নির্ভীক সাংবাদিক মানিক চন্দ্র সাহা হত্যা মামলার পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছে খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়ন (কেইউজে)। আজ বৃহস্পতিবার সাংবাদিক মানিক সাহার ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এ দাবি জানান।
বেলা ১১টায় কেইউজের নিজস্ব কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানিক সাহা হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী, অর্থযোগানদাতা ও গডফাদারদের আজও চিহ্নিত করতে পারেনি প্রশাসন। মামলার রায়ে পরিবারসহ গোটা সাংবাদিক সমাজ হতাশ ও ক্ষুব্ধ।
বক্তারা বলেন, ২২ বছর পার হলেও কেন মানিক সাহাকে হত্যা করা হয়েছিল, তার প্রকৃত কারণ আজও অজানা রয়ে গেছে। প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। মানিক সাহা হত্যার নেপথ্যের কারণ খুলনাবাসী জানতে চায়। তাই এ মামলার পুনঃতদন্ত করে আসল সত্য জনসম্মুখে আনার দাবি জানান তারা।
কেইউজের সহ-সভাপতি কাজী শামিম আহমেদের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন বিএফইউজের যুগ্ম-মহাসচিব হেদায়েত হোসেন মোল্লা, সদস্য কৌশিক দে বাপী, খুলনা প্রেসক্লাবের আহবায়ক মোঃ এনামুল হক, কেইউজের সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম কাজল, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা মিজানুর রহমান বাবু এবং নিহত সাংবাদিক মানিক সাহার ছোট ভাই শিক্ষক নেতা প্রদীপ সাহা।
কেইউজের সাধারণ সম্পাদক মহেন্দ্রনাথ সেনের সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন উদীচী খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক খৈয়ম মন্ডল মিঠু, প্রকৌশলী জাফর ইকবাল, ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি জাহিদুল আসলামসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সভা শেষে খুলনা প্রেসক্লাব চত্বরে অবস্থিত শহীদ সাংবাদিক স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে নিহত সাংবাদিক মানিক সাহার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ১৫ জানুয়ারি খুলনা প্রেসক্লাবের অদূরে দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় নৃশংসভাবে নিহত হন সাংবাদিক মানিক চন্দ্র সাহা। মৃত্যুকালে তিনি দৈনিক সংবাদ ও নিউ এজ পত্রিকার খুলনার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, ইটিভি প্রতিনিধি এবং বিবিসি বাংলার খণ্ডকালীন সংবাদদাতা ছিলেন। ২০০৯ সালে তিনি মরণোত্তর একুশে পদকে ভূষিত হন।
ঊআ-মোহন চৌধুরী
