ঊষার আলো রিপোর্ট : নগরীর ইকবালনগরে ছিনতাই মামলার চার আসামিকে গ্রেফতার করে খুলনা সদর থানা পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামীদ্বয় ঘটনার সাথে তাদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করে। তাদের স্বীকারোক্তিতে ছিনতাই-এ ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ও লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার করা হয়।
কেএমপি সূত্রে জানা যায়, শনিবার (০৮ মে) দুপুর ৩টার দিকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় দস্যুতা মামলার ঘটনার সাথে জড়িত অজ্ঞাতনামা আসামীদের মধ্যে ১নং আসামি বাবলু খলিফা(৩২)কে গ্রেফতার করা হয়। বাবুল খলিফা নগরীর বাগমারা গফ্ফারের মোড় এলাকার আব্দুল ছমেদ খলিফার পুত্র। তাকে বাগেরহাটের দশআনি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। একই দিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে অপর আসামি মন্টু সানা(৪০) কে গ্রেফতার করা হয়। আসামি মন্টু খুলনার কয়রা উপজেলার হরিনগর গ্রামের মৃত আব্দুল হাকিম সানার পুত্র। তাকে নগরীর লবণচরার ঠিকারাবন্দ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ আসামি বাবলু খলিফা(৩২)র কাছ থেকে ছিনতাইকৃত নগদ ৮৯ হাজার টাকা উদ্ধার করে।
অপরদিকে গ্রেফতার হওয়া দুই আসামির দেয়া তথ্যমতে ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে শনিবার (৮ মে) দিনগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে যশোর জেলার বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ এর সহযোগিতায় বেনাপোল পোর্ট থানা এলাকা থেকে অপর পলাতক আসামি মিন্টু আলী(৩৫) কে গ্রেফতার করে। মন্টু নগরীর বাগমারা মেইন রোডের আইয়ুব আলীর পুত্র। পুলিশ এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাই এর নগদ ৩ হাজার একশত টাকা উদ্ধার করে। পরবর্তীতে রবিবার (৯ মে) সকাল সাড়ে ১০ টার সময় নগরীর লবণচরার হরিণটানা মেইন রোড থেকে অপর আসামি মোঃ ইমরান শেখ (২৪) কে গ্রেফতার করে। আসামি ইমরান নগরীর হরিণটানার রিয়া বাজারের মোঃ নজরুল ইসলাম শেখ এর পুত্র। পুলিশ এ সময় ইমরানের কাছ থেকে ছিনতাই কাজে ব্যবহৃত FZ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে। অত্র মামলার ২নং আসামি মন্টু সানাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। আসামিদেরকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করলে পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানায়, ইকবাল হাসানের ১০৬ খানজাহান আলী রোড, সুন্দরবন কলেজের বিপরীতে অবস্থিত বাসা থেকে ঘটনাস্থল পর্যন্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ পূর্বক মটরসাইকেলটির ছবি যাচাই করার জন্য খুলনা মহানগীর সকল মটরসাইকেল গ্যারেজে দেখানো হয়। মামলাটির নিরবিচ্ছিন্ন তদন্ত কার্যক্রম ও বিশ্বস্ত সোর্স এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে কয়েকজন সন্ধিগ্ধ ব্যক্তির নাম উঠে আসে। অতপর সকল তথ্য-উপাত্ত যাচাই সাপেক্ষ্যে উপরোক্ত ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মামলার লুন্ঠিত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারের জন্য অভিযান এবং মামলার সার্বিক তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৩ মে সকাল পৌঁনে ১০টার দিকে নগরীর হাজী মেহের আলী রোডের (ইকবালনগর) গ্রীণ লীফ স্কুলের সামনে থেকে ব্যবসায়ী মোঃ ইকবাল হাসান খানের কাছ থেকে নগদ ৩ লাখ, ৮০ হাজার টাকা ছিনতাই হয়। ছিনতাইকারীরা একটি লাল কালারের FZ মটরসাইকেলে মাস্ক এবং ক্যাপ পরিহিত ছিল। মোঃ ইকবাল হাসান খান এ ব্যাপারে সদর থানায় একটি মামলা রুজু করেন যার নং-০২, তারিখ-০৩/০৫/২০২১।
(ঊষার আলো-এমএনএস)
