৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি সফল করার লক্ষ্যে খুলনায় ১১ দলীয় ঐক্যের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বক্তারা রাষ্ট্র সংস্কার, গণহত্যার বিচার এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগর সভাপতি মুফতি শরীফ সাঈদুর রহমান।
সভায় তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ উৎসর্গ করেছেন। তবে বর্তমান সরকার গণআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র সংস্কার, ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে গঠিত সংস্কার কমিশনের সুপারিশ ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণীত হলেও তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। গণভোটে জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিলেও সরকার সাংবিধানিক সংস্কার পরিষদ গঠনের উদ্যোগ থেকে সরে এসে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং পুনরায় কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।
১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট শাহ আলমের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য দেন এনসিপির মহানগর সংগঠক আহম্মদ হামীম রাহাত, খেলাফত মজলিসের মহানগর সভাপতি এফ এম হারুন অর রশীদ, বিডিপির মহানগর সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. হানিফ উদ্দীন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহানগর সেক্রেটারি মুফতি ইব্রাহিম খলিল, লেবার পার্টির মহানগর সেক্রেটারি মো. সোহেল হাওলাদার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের মহানগর সভাপতি রাকিব হাসান, খেলাফত মজলিসের মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন চঞ্চল, জামায়াতে ইসলামীর মহানগর প্রচার সম্পাদক মুহাম্মদ আব্দুল গফুর এবং খেলাফত আন্দোলনের মহানগর প্রচার সম্পাদক মো. সাকিবুল হাসান।
বক্তারা বলেন, জুলাই-আগস্টের গণহত্যাসহ অতীতের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার কার্যক্রম প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। তারা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বর এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।
সভায় জানানো হয়, ৩৬ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ১ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৩৬ দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে ৪ জুলাই নগরীর নিউমার্কেট এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল, ১৫ জুলাই সেমিনার, ২০ জুলাই নারীদের সমাবেশ, ২৩ থেকে ২৫ জুলাই চিত্র প্রদর্শনী ও স্মৃতিচারণমূলক সমাবেশ, ৩১ জুলাই দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনা এবং ৫ আগস্ট বাবরী চত্বরে ১১ দলীয় ঐক্যের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
