আরিফুর রহমান, বাগেরহাট: বাগেরহাটের চিতলমারি উপজেলার খিলিগাতি এলাকায় মাছের ঘেরে ফেলে শৈলেন্দ্র নাথ মন্ডল (৭০) নামের একজন ঘের মালিক কে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। জনতার সহায়তায় পুলিশ দুই জন কে গ্রেফতার করেছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলো জেলার ফকিরহাট উপজেলার বটতলা এলাকার সুখেন হালদারের ছেলে সুব্রত হালদার (২৭) ও একই এলাকার জ্যোতিন মন্ডলের ছেলে অপূর্ব মন্ডল (১৮)। এরা দুজনই নিহত শৈলেন্দ্র মন্ডলের বাড়ীর কামলা ছিল।
চিতলমারি থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার খিলিগাতি গ্রামের মৃত মহেন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে শৈলেন্দ্র নাথ মন্ডল তার মাছের ঘেরের মাছ ধরতে এবং ধান ক্ষেতে কাজ করার জন্য গত ২ দিন আগে ফকিরহাট উপজেলার বটতলা এলাকা থেকে সুব্রত ও অপুর্ব নামের দুইজন কামলা (শ্রমিক) নিয়ে আসেন। তাদের দিয়ে মাছের ঘের থেকে মাছ ধরে প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ বিক্রি করে নগদ টাকা ঘরে রাখেন। শনিবার রাতে শৈলেন্দ্র নাথ মন্ডল ওই দুই কামলা কে নিয়ে মাছের ঘেরে যান মেশিন বন্দ করতে। এসময় ওই দুই কামলা ধারালো অস্ত্র দিয়ে বৃদ্ধ ঘের মালিক কে জবাই করে হত্যার পর ঘেরে ফেলে রাখে। পরে এরা ঘের মালিকের বাড়ীতে এসে তার স্ত্রী রমা রানী মন্ডল কে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে তাকেও হত্যার ভয় দেখিয়ে মাছ বিক্রি করা টাকা কোথায় জানতে চায়। এ সময় রমা রানী মন্ডল চিৎকার দিলে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে সুব্রত কে ধরে ফেলে এবং অপুর্ব পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে চিতলমারি থানা পুলিশ ওই এলাকায় যায় এবং কৌশল করে পরে অপুর্ব কেও ধরে ফেলে।
রবিবার সকালে পুলিশ নিহত শৈলেন্দ্র নাথ মন্ডলের লাশের সুরতহাল শেষে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করে। নিহতের স্ত্রী রমা রানী মন্ডল জানান, ঘেরের কাজ করতে ফকিরহাট বটতলা এলাকা থেকে কামলা নিয়ে আসেন। আর সেই কামরাই এইহত্যা করল। চিতলমারি থানার ওসি তদন্ত মোঃ ইকরাম হোসেন বলেন, শৈলেন্দ্র নাথ কে জবাই করে হত্যা করা হয়েছে। আমরা নিহতের লাশ উদ্ধা করে ময়না তদন্তের জন্য বাগেরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করেছি। দুইজন কে ইতোমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে।
