মোঃ আশিকুর রহমান : গ্রীষ্মকাল তাপ প্রবাহ যেন অতিষ্ট করে তুলছে সর্বমহলকে। দিনের অস্থির গরম আর রাতের ভ্যাপসা গরম যেন যে বিষন্ন করে তুলছে। তারপর আবার লোডসেডিংয়ের উৎপাত তো আছেই। গায়ে যেন ঝাঝ লেগে যায় এমনই গরম। রোদে যেন সত্যই যেন কাহিল হয়ে পড়েছে রোজাদার, পথচারী সহ সর্বমহল। গ্রীষ্মের প্রখর তাপদাহ আর কাঠফাটা রোদ সহ অস্থির গরমে অতিষ্ট হয়ে ওঠছে নগরবাসী। অস্বস্তিকর অগ্নিদহনে প্রানহীন হয়ে উঠেতে শুরু করেছে চারপাশের প্রকৃতি, এমন গরমের তীব্রতায় প্রানীকূলও অতিষ্ঠ। ঠিক এমন এক মুহুর্তে আজ, ২৯ এপ্রিল সন্ধ্যার কিছু সময় পর যেন অনেকটাই কালবৈশাখির দেখা। হঠাৎ ধূলা উড়িয়ে আকাশে বিদ্যুৎ চমকিয়ে চারিদিন গুড়ুম গুড়–ম শব্দে যেন কান ঝালাপালা, সেই বেজায় বৃষ্টি যদি বৃষ্টি মাত্রা বেশি ছিল না তবে আকাশে বজ্রপাত হচ্ছিল।
২৯ এপ্রিল সন্ধ্যার পর ঝড়ো হাওয়া সহ বজ্রবৃষ্টি নামালো নগরজুড়ে, সারাদিনের তপ্ত গরমে কিছু সময়ের জন্য মেলেছে স্বস্তির পরশ। হঠাৎ এমন বিদ্যুৎতের চমকে অনেকেই দৌড়ি গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে কোনো দোকান, মার্কেট বা ছাদের নিচে। এমন অবস্থায় বিদ্যুৎ না থাকায় খুলনা-যশোর মহাসড়কের যানবহন সাময়িক চলাচলে বিঘœ ঘটে। ঈদ বাজার আসা ক্রেতারা পড়েন বিপাকে।
নগরীর ডাকবাংলা, শিববাড়ী, সোনাডাঙ্গা, গল্লামারী, নিরালা, জিরোপয়েন্ট, রুপসা, বয়রা, বাস্তহারা, বৈকালী, রায়েরমহল, নতুনরাস্তা, খালিশপুর, দৌলতপুর, রেলিগেট, মানিকতলা, ফুলবাড়ী, শিরোমনির এলাকায় চলে চলাচলে সাময়িক দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়।
জেসমিন সুলতানা জানান, গ্রীষ্মকাল। বাইরে প্রচুর রোদ। রোজা রাখতে খুব কষ্ট হয়ে যায়, তবুও আল্লাহর ফরজ হুকুম তো মানতে হবেই। তবে গতকাল সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে কালবৈশাখির মতো দিয়া মেরে ওঠে, মুহূর্তের মধ্যে নামে বজ্রবৃষ্টি, যদিও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি।
ব্যবসায়ী মিরাজ জানান, ঈদ ঘরের দরজায়। ফুটপাতে বসে কসমেটিক্সের ব্যবসা করছি। গতকাল সন্ধ্যায় পর হঠাৎ ধুলা উঠিয়ে বৃষ্টি নামাতেই দৌড়-ঝাপ শুরু হয়ে যায়। কোথায় মালামালা রাখবো। তারপরও বলছি যে গরম পড়েছে, তাতে বৃষ্টি দরকার।
খুলনা আবহাওয়াবিদ অফিসের সহকারী আবওহাওয়াবিদ আমিরুল আজাদ জানান, পশ্চিমা লঘুচাপের বর্ধিতাংশ হিমালয়ের পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলঘœ এলাকায় অবস্থান করছে। মোসুমী স্বাভাবিক লঘুচাপটি দক্ষিন বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে করছে। এরই প্রভাবে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়োয়া হওয়ার সাথে প্রবল বিজলী চমকানোসহ বৃষ্টি/বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। খুলনা বিভাগের খুলনা তাপমাত্রা ছিল ৩৬.০ ডিগ্রী, মংলায় ৩৬.৩ ডিগ্রী, সাতক্ষীরায় ৩৫.৭ ডিগ্রী, যশোরে ৩৭.৮ ডিগ্রী, চুয়াডাঙ্গায় ৩৭.০ ডিগ্রী ও কুমারখালীতে ৩৬.৮ ডিগ্রী সেলসিয়াস।
